আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের ক্ষতে প্রলেপ পড়ার আগেই ইরান হারাল তার ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে। রোববার (১ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে এই কট্টরপন্থী নেতার মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো। তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই আহমেদিনেজাদের বাসভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তেহরানে অবস্থিত আহমেদিনেজাদের বাসভবনে অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়। মূলত ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ ব্যক্তিদের নির্মূল করার যে নীল নকশা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তৈরি করেছে, তারই শিকার হলেন এই সাবেক প্রেসিডেন্ট। হামলার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা আহমেদিনেজাদ ছিলেন পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব এবং ইসরায়েল-বিরোধী কঠোর অবস্থান তাঁকে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে তাঁর অনড় ভূমিকা ওয়াশিংটনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
২০০৯ সালের পুনর্নির্বাচনে তাঁর জয়লাভের পর ইরানজুড়ে ‘সবুজ বিপ্লব’ বা ব্যাপক গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি শক্ত হাতে ক্ষমতা পরিচালনা করেন। একাধারে কট্টরপন্থী আদর্শ ও সাধারণ মানুষের কাছে ‘জনদরদী’ ভাবমূর্তির কারণে তিনি ইরানের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন।
আহমেদিনেজাদের এই আকস্মিক মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক মানচিত্রে কেবল শূন্যতা নয়, বরং চলমান অস্থিরতায় শোক ও প্রতিবাদের নতুন এক দাবানল সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: কাতার টুডে