× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সিআইএ-ইসরায়েল ‘মাস্টারপ্ল্যান’: যে নীল নকশায় খামেনির অবস্থান শনাক্ত

০২ মার্চ ২০২৬, ০০:১০ এএম । আপডেটঃ ০২ মার্চ ২০২৬, ০০:১১ এএম

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ফাইল ছবি: এএফপি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার নেপথ্যে কাজ করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা বাহিনীর এক অভূতপূর্ব এবং নিশ্ছিদ্র সমন্বয়। অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েক মাসের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ এবং রিয়েল-টাইম ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিংয়ের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে এই ‘হাই-প্রোফাইল’ হত্যাকাণ্ড। পারস্যের আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক অভিভাবককে সরিয়ে দেওয়ার এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ আর গোয়েন্দা তথ্যের নিখুঁত সমন্বয় বিশ্বজুড়ে এক কৌশলগত বিস্ময় তৈরি করেছে।

সিআইএ গত কয়েক মাস ধরে খামেনির দৈনন্দিন রুটিন, ব্যক্তিগত অভ্যাস এবং গোপন চলাফেরা গভীর নজরে রেখেছিল। শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক হওয়ার নিশ্চিত তথ্য পায় সংস্থাটি। সিআইএ-র এই ‘ভেরিফাইড’ তথ্যের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের পূর্বনির্ধারিত হামলার সময় পরিবর্তন করে। মূলত রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও সর্বোচ্চ নেতাসহ আইআরজিসি-র শীর্ষ কমান্ডকে এক জায়গায় পাওয়ার বিরল সুযোগটি হাতছাড়া করতে চায়নি ওয়াশিংটন।

তেহরান সময় শনিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে আকাশপথে শুরু হয় মূল অপারেশন। ইসরায়েল থেকে উড্ডয়ন করা মুষ্টিমেয় কিছু যুদ্ধবিমান দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ওই কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলায় কেবল খামেনি নন, বরং ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের নক্ষত্র হিসেবে পরিচিত রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরও প্রাণ হারান বলে নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।

ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা একে ‘কৌশলগত চমক’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও তাদের নেতৃত্বের এমন ঘনীভূত অবস্থানে আঘাত হানা হবে—তা ছিল তাদের ধারণার অতীত।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সময় খামেনি ও আইআরজিসি-র গোপন যোগাযোগ পদ্ধতি এবং চলাফেরার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত ডেটাবেজ তৈরি করেছিল পেন্টাগন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জুনেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, খামেনির প্রতিটি লুকানোর জায়গা ওয়াশিংটনের নখদর্পণে। সাম্প্রতিক এই অভিযানে সেই পুরোনো গোয়েন্দা নেটওয়ার্কেরই আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে তেহরানের জন্য সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের বিষয় হলো, যুদ্ধের আবহ থাকা সত্ত্বেও শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় দৃশ্যমান গাফিলতি। হামলায় দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা শেষ মুহূর্তে স্থান ত্যাগ করে প্রাণে বেঁচেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে কেবল একজন রাষ্ট্রপ্রধানের পতন ঘটেনি, বরং ইরানের পুরো নিরাপত্তা বলয়ের ভঙ্গুরতা বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত হয়েছে। একদিকে যখন তেহরানে নেতৃত্বশূন্যতা প্রকট হচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ‘সার্জিক্যাল প্রিসিশন’ এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করল। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্রতিরোধের কোন পথ বেছে নেয়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.