মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবার এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিল। ইরানের সাথে চলমান প্রত্যক্ষ যুদ্ধে এই প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনার প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তেহরানের একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত এবং অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর বরাতে আজ রোববার এই স্পর্শকাতর তথ্যটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নজিরবিহীন আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বলয়। এই অভিযানে ৩ জন সেনা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। গুরুতর আহত ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া বিস্ফোরণের তীব্রতা ও ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টারে আরও বেশ কয়েকজন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন, যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কোন নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে বা কোন পরিস্থিতিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে তা এখনো গোপন রেখেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর সুর প্রয়োগ করে জানিয়েছে, “বর্তমানে এক বিশাল রণক্ষেত্রে বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান চলমান রয়েছে এবং শত্রুপক্ষকে এর যথাযোগ্য জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত আছে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন সেনার এই মৃত্যু ওয়াশিংটনকে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে নামতে বাধ্য করতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরান যে ‘কঠোর প্রতিশোধের’ শপথ নিয়েছিল, মার্কিন সেনাদের ওপর এই আঘাত তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত করার নির্দেশ দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি এখন কেবল দুই দেশের শক্তিমত্তার মহড়াই নয়, বরং বিশ্বযুদ্ধের এক প্রবল আশঙ্কায় কাঁপছে।