ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এবার সরাসরি মার্কিন সামরিক শক্তির ওপর আঘাত হানার দাবি করেছে তেহরান। রোববার পারস্য উপসাগরে মোতায়েনকৃত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-কে লক্ষ্য করে একযোগে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় এখন চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির প্রয়াণের পর ইরান যে ‘কঠোর প্রতিশোধের’ অঙ্গীকার করেছিল, এটি তারই প্রথম ধাপ। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, চারটি অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কনে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। বিবৃতিতে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “জল কিংবা স্থল—আগ্রাসনকারী সন্ত্রাসীদের জন্য প্রতিটি স্থানই হবে নিশ্চিত কবরস্থান।” এই হামলাকে তেহরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর করা আঘাতের একটি ‘যথাযোগ্য প্রত্যুত্তর’ হিসেবে দেখছে।
ইরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছে এবং ইরানের কোনো ক্ষেপণাস্ত্রই রণতরীর কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। ওয়াশিংটনের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অথবা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলোকে মাঝপথেই রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে লক্ষ্য করে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি মার্কিন রণতরীকে নিশানা করার অর্থ হলো—সংঘাত এখন কেবল ছায়া যুদ্ধের স্তরে নেই, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। তেহরান যখন শোক ও ক্ষোভে উত্তাল, তখন ওয়াশিংটন পারস্য উপসাগরে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করছে।
এখন দেখার বিষয়, এই পাল্টাপাল্টি দাবি ও হামলার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো উত্তেজনা প্রশমনে কী ভূমিকা রাখে। তবে পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি যে এখন বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।
সূত্র: এএফপি