× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ত্রয়ীর কাঁধে ইরান

খামেনি-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের উদয়

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০১ মার্চ ২০২৬, ২০:৩৪ পিএম । আপডেটঃ ০১ মার্চ ২০২৬, ২১:৩৫ পিএম

(বাম থেকে) প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি মোহসেনি-এজেই ও আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফি।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আকস্মিক প্রয়াণে পারস্যের আকাশে যে নেতৃত্ব-শূন্যতার কালো মেঘ জমেছিল, তা নিরসনে ত্বরিত সাংবিধানিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর উদ্ভূত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী ‘অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল’। রোববার (১ মার্চ) ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই উচ্চপর্যায়ের পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। স্থায়ী উত্তরসূরি নির্বাচনের আগপর্যন্ত এই তিন ব্যক্তিত্বই এখন ইরানের ভাগ্যবিধাতা।

ইরানের জটিল ক্ষমতা-কাঠামো ও শিয়া ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষায় এই কাউসিল বা পরিষদে তিন বিভাগের শীর্ষ প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন:

  • মাসুদ পেজেশকিয়ান: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।
  • গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই: দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান (সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি)।
  • আয়াতুল্লাহ আলীরেজা আরাফি: প্রখ্যাত আলেম ও প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য।


ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের মুখপাত্র মহসেন দেহনাভি নিশ্চিত করেছেন যে, ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ আলীরেজা আরাফিকে পরিষদের ধর্মীয় প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করেছে। খামেনির দীর্ঘ ৩৭ বছরের শাসনের পর রাষ্ট্রযন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এই ক্ষণস্থায়ী পরিষদের মূল লক্ষ্য।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন ‘সুপ্রিম লিডার’ নির্বাচন করার পূর্ণ এখতিয়ার রাখে। এই পরিষদটি সম্পূর্ণভাবে অভিজ্ঞ শিয়া আলেমদের নিয়ে গঠিত, যাঁরা প্রতি আট বছর অন্তর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমান কাউন্সিলটি সেই বিশেষজ্ঞ পরিষদ কর্তৃক স্থায়ী নেতা চূড়ান্ত না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রশাসনিক সমন্বয় সাধন করবে।

ইরানি শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতাই হলেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু; যাঁর হাতে থাকে রাষ্ট্রের সব স্পর্শকাতর ও কৌশলগত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকার। তিনি একই সঙ্গে দেশটির নিয়মিত সামরিক বাহিনী এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সর্বাধিনায়ক। বর্তমান এই ক্রান্তিলগ্নে নবগঠিত কাউন্সিলকে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং বহিঃশক্তির সাথে চলমান সামরিক সংঘাতের কঠিন রণকৌশলও নির্ধারণ করতে হবে। এই তিন নেতার সম্মিলিত প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এখন ইরানের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান সোপান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.