আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ফাইল ছবি: এএফপি
দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা ছাপিয়ে এক নজিরবিহীন ‘কৌশলগত চমকে’র সাক্ষী হলো বিশ্ব। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পেছনে নেপথ্যের কারিগর ছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নিবিড় ও সূক্ষ্ম সমন্বয়। মূলত দীর্ঘ কয়েক মাসের ছায়া অনুসরণ এবং শনিবার সকালের একটি ‘হাই প্রোফাইল’ বৈঠকের নির্ভুল তথ্যই খামেনিসহ ইরানি নেতৃত্বের শীর্ষ বলয়কে নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দেয়।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির প্রাত্যহিক অভ্যাস এবং গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিল। গত বছরের ‘১২ দিনের সংঘাতের’ সময় সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন গোয়েন্দারা খামেনির যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গোপন চলাচলের একটি মানচিত্র তৈরি করে। সংবেদনশীল এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সাজানো হয় চূড়ান্ত নিধনযজ্ঞের নীল নকশা। মূলত রাতের অন্ধকারে হামলার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে প্রাপ্ত একটি তথ্য সব সমীকরণ বদলে দেয়।
শনিবার ভোরে সিআইএ নিশ্চিত হয় যে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় সংলগ্ন অত্যন্ত সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে খামেনির পাশাপাশি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এই ‘গোল্ডেন অপরচুনিটি’ বা সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার সময় পরিবর্তন করে দিনের আলোয় নিয়ে আসা হয়।
ইসরায়েলি সময় ভোর ৬টায় অত্যাধুনিক ও নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রসহ যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে ওড়ে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার যাত্রা শেষে তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি আঘাত হানে ওই নির্দিষ্ট ভবনে। সেখানে তখন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা মরণপণ আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন। খামেনি পাশের ভবনে থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্রের বিধ্বংসী ক্ষমতা থেকে রক্ষা পাননি তিনিও। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ভাষায়, "ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও এই ধরণের নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ছিল তাদের কল্পনার অতীত।"
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ইতিমধ্যে রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তবে কেবল শীর্ষ নেতৃত্বই নয়, হামলার দ্বিতীয় ধাপে ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অবস্থানগুলোতেও সিরিজ আঘাত হানা হয়। এতে ইরানের গোয়েন্দা ও সামরিক কাঠামোর মেরুদণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের জুনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, খামেনির অবস্থান তাঁর নখদর্পণে। সেই সময়ের শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্কই এবার আরও নিখুঁতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পারস্যের এই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে হানা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেবল একজন নেতাকে হত্যা করেনি, বরং তেহরানের দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা দেয়ালের ভঙ্গুরতাকেই বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত করল।
বিষয় : ইসরায়েল হত্যা গোয়েন্দা তথ্য
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
