আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ফাইল ছবি: এএফপি
এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানে অবসান ঘটল আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দীর্ঘ ৩৭ বছরের শাসনের। শনিবার সকালে তেহরানে নিজস্ব কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতা। তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে কেবল একটি যুগের সমাপ্তি ঘটেনি, বরং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে কার হাতে উঠছে ইরানের নেতৃত্বের ব্যাটন?
খামেনির আকস্মিক প্রয়াণে উদ্ভূত নেতৃত্ব-শূন্যতা পূরণে ইরানের সংবিধানে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। আল-জাজিরা ও বিবিসি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থায়ী উত্তরসূরি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ত্রিশক্তি পরিষদ’ সাময়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই কাউন্সিলে থাকছেন— দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মতাত্ত্বিক নেতা।
পাশাপাশি, ‘অ্যাসেম্বলি অব লিডারশিপ এক্সপার্টস’ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং অব্যাহত আকাশপথের হামলার কারণে নীতিনির্ধারকদের এক হওয়া এবং দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছানো এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।
হামলায় কেবল খামেনিই নন, নিহত হয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর। সামরিক নেতৃত্বের এই বিশাল শূন্যতার মাঝে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে বিশেষ কিছু প্রশাসনিক ও সামরিক কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি যেভাবে হাল ধরেছিলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেমন একক কোনো ক্যারিশম্যাটিক নেতা খুঁজে পাওয়া এখন তেহরানের জন্য বড় পরীক্ষা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে একটি সফল কৌশল হিসেবে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, এই হামলার লক্ষ্য ছিল তিনটি— ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া, দেশটির নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে অকেজো করা এবং সবশেষে তেহরানের বর্তমান শাসনকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনা। এদিকে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ইরানে আজ থেকে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোকাতুর পরিবেশের মধ্যেই প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ইরান; ইতিমধ্যে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু করেছে দেশটি।
পারস্যের এই প্রাচীন জনপদে এখন একদিকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। খামেনির প্রস্থান ইরানকে এক নতুন ও জটিল সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র নিহত ইরান আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
