স্যাটেলাইট চিত্রে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বাসভবন চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চিহ্ন ও কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া।
ইরানের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সামরিক অভিযানের সাক্ষী হলো তেহরান। শনিবার ভোরে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় প্রকম্পিত হয়েছে দেশটির ২০টি প্রদেশ। এই অভিযানের সবচেয়ে সংবেদনশীল লক্ষ্যবস্তু ছিল সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়। সদ্যপ্রাপ্ত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ নেতার সুরক্ষিত চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেখান থেকে এখনো কুণ্ডলী পাকিয়ে কালো ধোঁয়া উড়ছে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।
এয়ারবাসের সরবরাহকৃত উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত খামেনির বাসভবন ও কার্যালয় চত্বরে ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, চত্বরের একাংশ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং আগুনের লেলিহান শিখা পরবর্তী পোড়া ক্ষতগুলো প্রকট হয়ে আছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যেখানে বসবাস এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, সেই অতি-সুরক্ষিত এলাকায় এমন হানা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হামলার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— সর্বোচ্চ নেতা কি অক্ষত আছেন? এই জল্পনার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিস্থিতি স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, "আমার জানামতে, সর্বোচ্চ নেতা জীবিত ও নিরাপদ আছেন।" তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এবারের যৌথ হামলায় শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বেসামরিক জানমালের ওপরও ভয়াবহ আঘাত এসেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয় সরাসরি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, এই বর্বরোচিত হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। সারা দেশে একযোগে ২০টি প্রদেশে চালানো এই হামলায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এই হামলাকে ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দাবি করলেও, সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনকে নিশানা করাকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘চূড়ান্ত উসকানি’ হিসেবে দেখছেন। ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে চালানো এই বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি দেশটির সার্বভৌমত্বকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এই ক্ষতের বিপরীতে কী ধরণের ‘কঠোর প্রতিশোধের’ পথ বেছে নেয়।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্য ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
