× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তৃতীয় দিনে পাক-আফগান সংঘাত, পাকিস্তানকেই সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রের

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:২০ এএম । আপডেটঃ ০১ মার্চ ২০২৬, ০৫:১০ এএম

পাক বিমান হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বেসামরিক যানের পাশে দাঁড়িয়ে এক স্তব্ধ আফগান নাগরিক। ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত সংঘাত তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। ডুরান্ড লাইন বরাবর পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি সীমান্ত ছাপিয়ে এই উত্তাপ এখন দুই দেশের কূটনৈতিক দপ্তরে। যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে বৈশ্বিক মধ্যস্থতার চেষ্টা চললেও ইসলামাবাদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত কোনো সংলাপ নয়। অন্যদিকে, এই সংকটে পাকিস্তানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’-এর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার গভীর রাত থেকেই আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের অন্তত ১৩টি স্থানে শুরু হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান। তালেবান যোদ্ধারাও বসে থাকেনি; তারা মিরানশাহ ও স্পিনওয়ামের পাকিস্তানি সামরিক শিবিরে ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি অনুযায়ী, তাদের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৩১ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং কয়েকশ আহত হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক ট্যাংক ও সামরিক চেকপোস্ট।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ আরও করুণ। কাবুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের এই বিমান হামলায় অন্তত ৫২ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ নারী ও শিশু। যুদ্ধের এই অসম কামড় থেকে রেহাই পায়নি সাধারণ মানুষের ঘরবাড়িও।

এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে বিশ্ব যখন বিভক্ত, তখন প্রকাশ্যেই ইসলামাবাদের পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তান ‘খুব ভালো করছে’ উল্লেখ করে তিনি তাদের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আফগান মাটিকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আস্ফালন ঠেকাতে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ওয়াশিংটন এই অভিযানকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে দেখতে নারাজ, বরং তারা তালেবানকে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সীমান্তে যখন কামানের গর্জন, তখন পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ উভয় দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় ফোনালাপ করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস সতর্ক করে বলেছেন, এই সহিংসতা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া কাতার, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন ও রাশিয়াও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়েছে।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিলেও পাকিস্তান সরকার এখন পর্যন্ত অনড়। ইসলামাবাদের সাফ কথা, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করলে কাবুলের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক অর্থহীন। ফলে সীমান্ত আপাতত শান্ত হওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.