মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক চরম অনিশ্চয়তা ও রহস্যের জন্ম দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শারীরিক অস্তিত্ব নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। খামেনি সম্ভবত ‘বেঁচে নেই’—নেতানিয়াহুর এমন ইঙ্গিতপূর্ণ দাবির পর থেকেই তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুকে ঘিরে দানা বাঁধছে গভীর রহস্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সূত্রগুলোর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবির সপক্ষে সরাসরি কোনো প্রমাণ এখনো সামনে না এলেও, ‘বিবিসি ভেরিফাই’-এর সংগৃহীত সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রগুলো পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত খামেনির অতি-সুরক্ষিত কার্যালয় বা ‘লিডারশিপ হাউস’-এর ওপর দিয়ে ধারণ করা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ছবিতে ওই স্থাপনার একটি অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ নীরবতা কোনো বড় ধরনের অঘটনের ইঙ্গিত হতে পারে।
খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ইরানি প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ভিডিও বার্তা বা সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, তাঁর জানামতে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন। কিন্তু খামেনির নিজস্ব কণ্ঠস্বর বা সাম্প্রতিক কোনো ফুটেজ না পাওয়া পর্যন্ত এই ধোঁয়াশা কাটছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি নেতানিয়াহুর দাবি সত্য হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, সমগ্র বিশ্বব্যবস্থায় এক অপূরণীয় শূন্যতা ও ব্যাপক পরিবর্তনের ঢেউ তুলবে। আপাতত পুরো বিশ্বের নজর এখন তেহরানের সেই রহস্যময় ‘লিডারশিপ হাউস’-এর দিকে।