ইরানের ভূখণ্ডে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। তেহরানের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এই আগ্রাসনকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ‘চরম হুমকি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে তারা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং সাধারণ জনগণকে এই হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। গোষ্ঠীটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পশ্চিমের এই দুঃসাহসিক সামরিক তৎপরতা যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এর ‘ভয়াবহ ও ব্যতিক্রমহীন পরিণতি’ পুরো অঞ্চলের প্রতিটি রাষ্ট্রকে গ্রাস করবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেমের শনিবার একটি টেলিভিশন ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাঁর এই বক্তব্যের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখলেও শেষ মুহূর্তে কৌশলগত কারণে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে এবং পরবর্তী করণীয় দ্রুতই ঘোষণা করা হবে।
ইরানের ওপর এই হামলাকে কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক সংঘাত হিসেবে দেখছে না হিজবুল্লাহ। বরং একে সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করার একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে তারা। লেবানন-ভিত্তিক এই গোষ্ঠীটি মনে করে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ পদক্ষেপ আগামীতে অন্য দেশগুলোর ওপরও আগ্রাসনের পথ প্রশস্ত করবে।
সূত্র: আলআরাবিয়া