মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক এক শক্তিশালী সামরিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) স্থল শাখার কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়ে থাকতে পারেন।
আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্র এবং ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অবগত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি প্রকাশ করেছে। যদিও তেহরান বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই খবরের আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবে এই সম্ভাব্য ঘটনাটি পুরো অঞ্চলের সমীকরণ আমূল বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত গোপনীয় ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে এই অভিযান চালানো হয়। ইরানের সামরিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই শীর্ষ দুই ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরই বিমান হামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই দুই জেনারেলের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, ফলে তাঁদের প্রস্থান দেশটির সামরিক কাঠামোতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে।
এই খবরের পর বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে গত কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা আরও প্রবল হয়ে উঠল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সাথে তেহরানের আনুষ্ঠানিক বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।