২০২৪ সালে বাগরাম বিমান ঘাঁটিতে তালেবানের কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত সামরিক যান। আধুনিক মারণাস্ত্র থাকলেও অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তালেবানকে এখনো গেরিলা কৌশলের ওপরই নির্ভরশীল করে রেখেছে। ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পার্বত্য সীমান্তে বারুদের গন্ধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধ এখন আর কেবল বাক্যযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতী সংঘাতে। বৃহস্পতিবার আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকি দখলের দাবি করলেও, ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তা জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার পাল্টাপাল্টি হামলায় ৩৬ জন তালেবান সদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে এখন বড় প্রশ্ন—প্রথাগত যুদ্ধে পাকিস্তানের আধুনিক সমরাস্ত্রের বিপরীতে তালেবানের সামরিক সক্ষমতা আসলে কতটুকু?
২০২১ সালের আগস্টে কাবুলের পতনের পর প্রাক্তন আফগান সেনাবাহিনী এবং বিদায়ী মার্কিন বাহিনীর ফেলে যাওয়া উন্নত সব সামরিক সরঞ্জাম তালেবানের হস্তগত হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের (পেন্টাগন) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ বছরে আফগানিস্তানকে দেওয়া প্রায় ১৬ লাখ হালকা ও ভারী অস্ত্রের ৭০ শতাংশই এখন তালেবানের অস্ত্রাগারে।
তালেবানের হাতে থাকা উল্লেখযোগ্য অস্ত্রশস্ত্র:
বিশ্লেষক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তালেবানের সামরিক শক্তির আসল মেরুদণ্ড কোনো উন্নত প্রযুক্তি নয়, বরং তাদের দুই দশকের ‘গেরিলা যুদ্ধের’ অভিজ্ঞতা। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বিসমিল্লাহ তাবান ও আমির রানার মতে, তালেবান এখনো একটি নিয়মিত সেনাবাহিনীর মতো লড়াই না করে বরং হালকা অস্ত্রে সজ্জিত ‘সশস্ত্র গেরিলা গোষ্ঠী’ হিসেবে আক্রমণ চালাচ্ছে।
এই কৌশলের প্রধান অনুষঙ্গ হলো ‘ইয়েলো ব্যারেল’ বা অত্যন্ত সস্তা ও শক্তিশালী আইইডি (আইইডি)। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় উপজাতীয় ও সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্য থাকায় তারা খুব সহজেই অনুপ্রবেশ এবং তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারে। একজন তালেবান কমান্ডারের ভাষ্যমতে, "প্রয়োজনে নিয়মিত ইউনিট ব্যবহার করা হলেও আমাদের মূল শক্তি হলো আকস্মিক হামলা এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের গেরিলা সক্ষমতা।"
পাকিস্তানের একটি বড় কৌশলগত সুবিধার জায়গা হলো তাদের আধুনিক বিমানবাহিনী। এর বিপরীতে তালেবানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নড়বড়ে। যদিও তারা প্রাক্তন আফগান সরকারের প্রায় ৬০টি বিমান ও হেলিকপ্টার সচল করার দাবি করেছে, তবে আকাশ থেকে আকাশে বা আকাশ থেকে ভূমিতে নিখুঁতভাবে আঘাত করার মতো আধুনিক প্রযুক্তি তাদের নেই।
কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খুররম ইকবালের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা বর্তমান আফগান সরকারের নেই। চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা একটি দেশ যেখানে প্রতি দশটি পরিবারের মধ্যে আটটিই জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে প্রথাগত যুদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞ ইফতিখার ফিরদৌস মনে করেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সরাসরি 'প্রচলিত যুদ্ধ' হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তার পরিবর্তে তালেবান তাদের হাতে থাকা 'টিটিপি' (তেহরিক-এ-তালেবান পাকিস্তান)-কে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানের শহরাঞ্চলগুলোতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। বড় শহরগুলোতে চরমপন্থি হামলার সংখ্যা বাড়িয়ে পাকিস্তান সরকারকে চাপে রাখাই হতে পারে তাদের বিকল্প রণকৌশল।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
বিষয় : পাকিস্তান আফগানিস্তান যুদ্ধ তালেবান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
