× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

অবর্ণনীয় অন্ধকার থেকে যেভাবে ‘লুসি’কে ফেরালেন গোয়েন্দারা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৫ পিএম । আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৫ পিএম

সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রী ও ইটের ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ডার্ক ওয়েবের অপরাধীকে শনাক্ত করেন গোয়েন্দারা। ছবি: সংগৃহীত

তদন্তের প্রতিটি মোড়ে ছিল অন্ধকারের দেয়াল। ডার্ক ওয়েবের এনক্রিপ্ট করা গহিন অরণ্যে হারিয়ে যাচ্ছিল একটি নিষ্পাপ শৈশব। ১২ বছর বয়সী সেই শিশুটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘লুসি’। দিনের পর দিন অবর্ণনীয় যৌন নির্যাতনের শিকার সেই শিশুটিকে উদ্ধারের কোনো কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তুখোড় গোয়েন্দা গ্রেগ স্কয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নয়, বরং সাধারণ এক টুকরো ইট আর ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা সোফার সূত্র ধরেই উন্মোচিত হলো এক রোমহর্ষক উদ্ধারকাহিনি।

নির্যাতনের স্থিরচিত্র ও ভিডিও ডার্ক ওয়েবে ছড়িয়ে দিচ্ছিল অপরাধীরা। পরিচয় গোপন রাখতে তারা এতটাই সতর্ক ছিল যে ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি ফেসবুকের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টও তাদের ‘মুখ শনাক্তকরণ’ প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে হাত গুটিয়ে নেয়। গ্রেগ স্কয়ার ও তাঁর দল যখন হতাশায় নিমজ্জিত, তখন তাঁরা নজর দেন ছবির পটভূমিতে থাকা অতি সাধারণ কিছু আসবাবের দিকে।

তদন্তকারীরা দেখতে পান, ছবিতে থাকা বৈদ্যুতিক সকেটের ধরন বলছে ঘরটি উত্তর আমেরিকায়। এরপরই তাঁদের নজরে আসে একটি বিশেষ সোফা। অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই নির্দিষ্ট মডেলের সোফা সারা দেশে নয়, কেবল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বিক্রি হয়েছে। সেই তালিকা থেকে পাওয়া যায় প্রায় ৪০ হাজার সম্ভাব্য ক্রেতার নাম। কিন্তু অতল সাগরে সুঁই খোঁজার মতো এই বিশাল তালিকায় তখনো অধরা ছিল অপরাধীর হদিস।

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় লুসির শয়নকক্ষের দেয়ালের উন্মুক্ত লাল ইট। গ্রেগ যোগাযোগ করেন ‘ব্রিক ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’-এর সঙ্গে। সেখান থেকে তিনি খুঁজে পান ইট বিশেষজ্ঞ জন হার্পকে। হার্প ছবি দেখে মুহূর্তেই চিনে ফেলেন সেই বিশেষ ইট— যার নাম ‘ফ্লেমিং আলামো’। তিনি জানান, আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ইট উৎপাদিত হতো এবং এর ওজন ছিল অনেক বেশি।

ইট বিশেষজ্ঞ হার্পের একটি বাক্যই গোয়েন্দাদের সাফল্যের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেছিলেন, “ইটটি ভারী, আর ভারী ইট কখনো খুব দূরে যায় না।” এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গোয়েন্দারা তাঁদের তল্লাশি এলাকা কমিয়ে আনেন হার্পের ইট কারখানার ১০০ মাইলের মধ্যে। ৪০ হাজার ক্রেতার তালিকা নেমে আসে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জনে।

সেই সংক্ষিপ্ত তালিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিবিড় বিশ্লেষণের পর গোয়েন্দারা একটি সন্দেহজনক বাড়ির ঠিকানা পান। ইট বিশেষজ্ঞ হার্প দূর থেকে সেই বাড়ির স্থাপত্যশৈলী দেখে নিশ্চিত করেন, এটি সেই সময়েরই নির্মাণ যখন ‘ফ্লেমিং আলামো’ ইট ব্যবহৃত হতো।

দ্রুত অভিযানে নামে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। উদ্ধার করা হয় লুসিকে, যে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে নিজের মায়ের প্রেমিকের হাতে নির্যাতিত হচ্ছিল। অপরাধীকে সোপর্দ করা হয় আইনের হাতে, যার ভাগ্যে জোটে ৭০ বছরের কারাদণ্ড। উদ্ধার হওয়ার পর লুসি গোয়েন্দাদের জানান, “আমি প্রতিমুহূর্তে প্রার্থনা করতাম যেন এই নরককাহিনি শেষ হয়। আপনাদের আসা ছিল আমার সেই প্রার্থনারই উত্তর।”

এই দীর্ঘ ও বীভৎস তদন্তের প্রভাব পড়েছিল গোয়েন্দা গ্রেগ স্কয়ারের ব্যক্তিগত জীবনেও। শিশুদের ওপর চলা অমানবিক নির্যাতনের প্রমাণ দেখতে দেখতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন মদে, এমনকি আত্মহত্যার চিন্তাও এসেছিল তাঁর মনে। তবে সহকর্মীদের সহায়তায় ও নিজের মনের জোরে তিনি ফিরে এসেছেন স্বাভাবিক জীবনে। বর্তমানে বিশের কোঠায় পা রাখা লুসির সঙ্গে সম্প্রতি দেখা করেছেন গ্রেগ। লুসি এখন সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনে থিতু হওয়ার লড়াই চালাচ্ছেন।


সূত্র: বিবিসি বাংলা 

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.