চামান সীমান্তে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাহারায় থাকা পাকিস্তানের একটি সাঁজোয়া যান। ছবি: এএফপি
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত উত্তেজনা এবার এক ভয়াবহ রূপ পরিগ্রহ করেছে। রোববার ভোরে আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাখতিকা প্রদেশের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এই অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ হিসেবে দাবি করলেও এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি। গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশের রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘর্ষের পর এটিই ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিস্তৃত সামরিক অভিযান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানে হওয়া ধারাবাহিক আত্মঘাতী হামলার পেছনে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহারকারী ‘খারিজি’ (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি) যোদ্ধারা দায়ী। ইসলামাবাদের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টিটিপি ও ইসলামিক স্টেট খোরসান প্রদেশের (আইএস-কেপি) সাতটি গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলাসহ বাজাওর ও বান্নু জেলায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানি জেনারেলরা তাঁদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতেই আফগান ভূখণ্ডে এই পৈশাচিক হামলা চালিয়েছেন। নানগারহারের বিহসুদ জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, একটি বাড়িতে চালানো হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১২ জনই শিশু ও কিশোর।
দীর্ঘ ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বিরাজমান এই উত্তেজনা প্রশমনে সম্প্রতি সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিবিনিময় হলেও রোববারের হামলা সেই সমঝোতাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, তালেবান শাসকেরা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদত দিচ্ছে। পক্ষান্তরে কাবুল বরাবরই এ দাবি অস্বীকার করে আসছে।
বিহসুদ জেলায় বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের দৃশ্য বর্তমানে আফগানিস্তানের মানবিক সংকটের এক করুণ চিত্র তুলে ধরছে। এই সংঘাতের ফলে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিংগুলো বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
