প্রকৃতির অমোঘ সৌন্দর্যের হাতছানি মুহূর্তেই রূপ নিল এক বিষাদময় ট্র্যাজেডিতে। সাইবেরিয়ার বিস্তীর্ণ হিমশীতল বৈকাল হ্রদের জমাট বাঁধা বরফ ভেদ করে একটি পর্যটকবাহী মিনিবাস গভীরে তলিয়ে যাওয়ায় প্রাণ হারিয়েছেন সাত চীনা পর্যটক ও তাঁদের রুশ চালক। গত শুক্রবারের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই হৃদয়বিদারক খবরটি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
শীতের প্রকোপে বৈকাল হ্রদের উপরিভাগ পাথরসম কঠিন বরফে ঢেকে গেলেও নিচে লুকিয়ে থাকে প্রাণঘাতী ফাটল। ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানান, পর্যটকদের বহনকারী মিনিবাসটি চলাচলের সময় প্রায় তিন মিটার প্রশস্ত এক বিশালাকার ফাটলে পড়ে মুহূর্তেই হ্রদের গভীরে তলিয়ে যায়। ডুবুরিরা দীর্ঘ তল্লাশির পর হ্রদের প্রায় ১৮ মিটার (৫৯ ফুট) গভীর থেকে বাসটি শনাক্ত করেন। পানির নিচে ব্যবহারযোগ্য বিশেষায়িত ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় একে একে আটটি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
বিশ্বের গভীরতম হ্রদ হিসেবে স্বীকৃত বৈকাল—যার গভীরতা প্রায় ১ হাজার ৬৪২ মিটার। শীত মৌসুমে এই হ্রদ পর্যটকদের কাছে এক প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠলেও এটি এক ভয়ঙ্কর মরণফাঁদে পরিণত হয়। গভর্নর কোবজেভ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পর্যটকরা কোনো স্বীকৃত ট্রাভেল এজেন্সির সাহায্য না নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সতর্কবার্তায় বলেন, “আমি আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই, এই সময়ে বৈকাল হ্রদের বরফের ওপর দিয়ে ভ্রমণ শুধু নিষিদ্ধই নয়, বরং নিশ্চিতভাবে প্রাণঘাতী।”
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এত বড় দুর্ঘটনার পরও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা ফিরছে না। গভর্নর আক্ষেপ করে জানান, এই দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্র ও শনিবার পৃথক দুটি ঘটনায় বরফে আটকে পড়া আরও ছয়জন পর্যটককে উদ্ধার করতে হয়েছে। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারির শেষ দিকেও একই হ্রদে বরফ ধসে আরও এক চীনা পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল।
রাশিয়ার তদন্তকারী সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর খেলায় সাইবেরিয়ার তুষারশুভ্র প্রান্তরে এখন কেবলই স্বজন হারানোর হাহাকার।