× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা

‘আত্মসমর্পণ’ নাকি যুদ্ধের পথে তেহরান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩২ এএম । আপডেটঃ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৫ এএম

তেহরানের রাস্তায় মার্কিনবিরোধী বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন নাগরিকরা, যেখানে লেখা— "তুমি যদি ঝড় বপন করো, তবে ঘূর্ণিঝড়ই ঘরে তুলবে।" ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশিতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর স্ট্রাইক গ্রুপের উপস্থিতি কিংবা জিব্রাল্টার প্রণালী পেরিয়ে ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-এর রণসজ্জা—সবই জানান দিচ্ছে, ওয়াশিংটন কেবল সংকেত নয়, বরং প্রত্যক্ষ যুদ্ধের প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ছায়াযুদ্ধ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে কূটনীতির পথ রুদ্ধপ্রায়। বিশ্বের অন্যতম সামরিক পরাশক্তি ও তার আঞ্চলিক মিত্র ইসরায়েলের সম্মিলিত চাপের মুখে দাঁড়িয়েও ইরান কেন সংঘাতের ঝুঁকি নিচ্ছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে হোয়াইট হাউসের উত্থাপিত ‘শর্ত’গুলোর গভীরে।

তেহরানের নীতিনির্ধারকদের কাছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্পের শর্তগুলো আলোচনার টেবিলে বসার কোনো প্রস্তাব নয়, বরং এক প্রকার ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ নামান্তর। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমিয়ে ইসরায়েলের সীমানার বাইরে রাখা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন প্রত্যাহার—এই দাবিগুলো মেনে নেওয়া মানেই ইরানের কয়েক দশকের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রজোটের সরাসরি সমর্থন না থাকায় তেহরান দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ গড়ে তুলেছে। দেশের সীমানা থেকে সংঘাত দূরে রাখা এবং ইসরায়েলকে চাপে রাখার এই নেটওয়ার্কই ইরানের সার্বভৌমত্বের রক্ষা কবজ। এই উপাদানগুলো বিসর্জন দেওয়া মানেই নিজেদের অস্তিত্বকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে একটি সীমিত যুদ্ধের ঝুঁকি নেওয়া হয়তো সম্ভাব্য কৌশলগত পশ্চাদপসরণের চেয়ে কম বিপজ্জনক। তার দৃষ্টিতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব, কিন্তু একবার কৌশলগত ভিত্তি হারিয়ে ফেললে তা শাসনের পতন ত্বরান্বিত করবে।

তবে এই হিসাবের মধ্যেও লুকিয়ে আছে বড় ঝুঁকি। মার্কিন যেকোনো অভিযানের প্রাথমিক লক্ষ্য হতে পারেন খামেনি নিজেই। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা শাসনের শীর্ষ নেতৃত্বের হঠাৎ শূন্যতা এবং ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর কাঠামোতে আঘাত শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, দেশের ভেতরে পুঞ্জীভূত জনঅসন্তোষ ও অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত অর্থনীতির ওপর যুদ্ধের আঘাত সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে দাবানলে পরিণত করতে পারে।

ঝুঁকির পাল্লা কেবল ইরানের দিকেই ভারী নয়, ওয়াশিংটনের জন্যও এই পথ কণ্টকাকীর্ণ। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যুদ্ধ শুরু হয় অনুমানের ভিত্তিতে কিন্তু শেষ হয় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির মধ্য দিয়ে। ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধ ইরানের কমান্ড কাঠামোর দুর্বলতা যেমন দেখিয়েছে, তেমনি চাপের মুখে তাদের টিকে থাকা ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতাও স্পষ্ট করেছে।

তেহরানে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের পতন ঘটলে তা মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা স্বার্থ বা স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেয় না। বরং ক্ষমতার শূন্যতায় আরও কট্টর বা খণ্ডিত শক্তির উত্থান হতে পারে, যা হবে ওয়াশিংটনের জন্য এক নতুন দুঃস্বপ্ন।

আয়াতোল্লাহ খামেনি এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে। একদিকে ‘কৌশলগত আত্মসমর্পণ’ আর অন্যদিকে ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য যুদ্ধ’—তেহরান আপাতদৃষ্টে দ্বিতীয় বিকল্পটির দিকেই ঝুঁকছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এই ছক কতটুকু নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা-ই এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।


সূত্র: বিবিসি বাংলা 

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.