মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। গত বছরের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবাননের বেকা উপত্যকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবারের এই পৈশাচিক হামলায় হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ নেতাসহ অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া আর আগুনের লেলিহান শিখায় দগ্ধ হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে পূর্ব লেবাননে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী হামলা বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, পূর্ব লেবাননের বালবেক অঞ্চলে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। শনিবার এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে তেল আবিব জানায়, তারা হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের বেশ কয়েকজন সদস্যকে ‘নির্মূল’ করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, এই কেন্দ্রগুলো থেকেই ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলার নীল নকশা তৈরি করা হচ্ছিল। তবে নিজেদের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের মৃত্যুর বিষয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো শোকবার্তা বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেকা উপত্যকার ক্ষত না শুকাতেই দক্ষিণ লেবাননের সিডন শহরের কাছে অবস্থিত 'আইন আল-হিলওয়েহ' ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরেও হানা দেয় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। ইসরায়েল সেখানে হামাসের আস্তানা থাকার দাবি করলেও হামাস কর্তৃপক্ষ তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, আক্রান্ত স্থানটি ছিল শিবিরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা 'জয়েন্ট সিকিউরিটি ফোর্স'-এর কার্যালয়। নিরপরাধ শরণার্থীদের ওপর এই আক্রমণ মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। এক আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি একে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং জাতিসংঘের অঙ্গীকারের ‘ন্যক্কারজনক লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট আউন সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত লেবাননের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতেই এই উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে ইসরায়েলের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টির জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই দুই পক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছে। তবে শুক্রবারের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।