× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভারতীয় বাহিনীকে হটিয়ে সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিল বিদ্রোহীরা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৪২ এএম । আপডেটঃ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৪২ এএম

মণিপুরের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একটি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিতে দেখা যাচ্ছে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে কয়েক দশকের জাতিগত অসন্তোষ এখন এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রামে রূপ নিয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে জমি ও আবাসনের অধিকার নিয়ে সূচিত এই সংঘাত গত তিন সপ্তাহে এক অভূতপূর্ব সংকটের জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শোচনীয় ব্যর্থতা এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান শক্তির মুখে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ইম্ফল প্রশাসন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, খোদ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণ বাঁচাতে রণক্ষেত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ফেলে পিছু হটার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক কিছু ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, মণিপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি দখল করে নিয়েছে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। ভারতের আকাশসীমার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পরিচিত বিমান বাহিনীর জওয়ানদের জীবন বাঁচাতে ঘাঁটি ছেড়ে পলায়নের দৃশ্য বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এমনকি ঘাঁটিতে রাখা ভারতীয় বিমান বাহিনীর অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার এখন সশস্ত্র বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। এদিকে লিটান এলাকায় সারি সারি সামরিক যান নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো সশস্ত্র কুকি বিদ্রোহীদের পরোক্ষ সহায়তা প্রদান করছে।

মণিপুরের এই অস্থিতিশীলতার মূলে রয়েছে কুকি ও নাগা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধ। সংঘাতের এই নতুন পর্বে শত শত কুকি তরুণ-তরুণী সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামে শামিল হচ্ছেন। কংপকপি থেকে সাইকুল হয়ে মংকর চেপু অভিমুখে কুকি স্বেচ্ছাসেবকদের বিশাল পদযাত্রা নাগা জনগোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় নাগা জাতিগোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা পুরো রাজ্যকে এক ভয়াবহ জাতিদাঙ্গার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘ইউথ ফোরাম ফর প্রটেকশন অফ হিউম্যান রাইটস’ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতির জন্য সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছে।

সংঘাতের উত্তাপ এখন প্রশাসনিক কাঠামোকেও আঘাত করছে। বিদ্রোহী সংগঠন ‘ইউনাইটেড কুকি লিবারেশন আর্মি’ ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বরত তিনজন কুকি বিধায়ককে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পদত্যাগের চূড়ান্ত সময়সীমা (আল্টিমেটাম) বেঁধে দিয়েছে। এই আদেশ অমান্য করলে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেভেন সিস্টার্সের এই রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন যে মাত্রায় পৌঁছেছে, তা ভারতের অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিক্ষুব্ধ মণিপুরে এখন শুধু অস্ত্রের গর্জন আর সাধারণ মানুষের হাহাকার, যেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের উপস্থিতি কেবলই এক নড়বড়ে ছায়া।

বিষয় : মণিপুর ভারত

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.