ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী ও বিতর্কিত পদক্ষেপ ‘সর্বজনীন শুল্ক নীতি’ বা গ্লোবাল ট্যারিফকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, জরুরি অবস্থার অজুহাত দিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতিরেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর একতরফা শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই যুগান্তকারী রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ৬-৩ ভোটের ব্যবধানে এই রায় ঘোষিত হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) প্রেসিডেন্টকে এমন কোনো নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রদান করে না, যার মাধ্যমে তিনি একক সিদ্ধান্তে বিশাল অংকের শুল্ক নির্ধারণ করতে পারেন। বিচারপতি রবার্টস তাঁর পর্যবেক্ষণে জোরালোভাবে উল্লেখ করেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট অনুমোদনের প্রমাণ পেশ করতে হবে—যা এই ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল।
২০২৫ সালের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প চীন, কানাডা ও মেক্সিকোসহ বিশ্বজুড়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যাকে তিনি ‘লিবারেশন ডে ট্যারিফ’ হিসেবে অভিহিত করেন। পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেলের তথ্যমতে, এই নীতির আওতায় ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার শুল্ক সংগ্রহ করেছে। আদালতের এই রায়ের ফলে সংগৃহীত এই বিপুল অর্থ এখন ব্যবসায়ীদের ফেরত দিতে হতে পারে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই শুল্ককে মার্কিন অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের ঢাল হিসেবে বর্ণনা করে আসছিলেন। তবে আদালতের প্রতিকূল রায়ে বিচলিত না হয়ে তিনি তাঁর চিরচেনা ভঙ্গিতে বিকল্প ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, আইনি লড়াইয়ে হারলে তাঁর কাছে ‘গেম টু’ বা বিকল্প রণকৌশল প্রস্তুত রয়েছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা এখন জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা বিদেশি ‘অন্যায্য’ বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থার মতো অন্য কোনো আইনি ধারার আশ্রয় নিতে পারেন।
ট্রাম্পের এই ‘শুল্ক যুদ্ধ’ কেবল বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেরও চরম ক্ষুব্ধ করেছিল। ১২টি অঙ্গরাজ্য এবং শত শত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি শুল্ক নীতির কারণে কেবল ক্যালিফোর্নিয়াতেই ২৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি এবং ৬৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরলেও ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও শঙ্কা—উভয়ই বিরাজ করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
