× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তালেবানি ফরমানে দাড়ি ছাঁটাই নিষিদ্ধ, আতঙ্কে কাবুলের নরসুন্দরেরা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫০ পিএম । আপডেটঃ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৯ পিএম

তালেবান প্রশাসনের কড়া নজরদারি উপেক্ষা করে জীবন ও জীবিকার তাগিদে কাবুলে এক গ্রাহকের চুল ছাঁটছেন এক আফগান নরসুন্দর। ছবি: এএফপি

আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের যাপিত জীবন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সাজসজ্জা—সবই এখন তালেবান কর্তৃপক্ষের কঠোর ‘নীতি পুলিশি’র নজরদারিতে। বিশেষ করে পুরুষদের দাড়ি ছাঁটা বা ছোট রাখার ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করায় গভীর সংকটে পড়েছেন দেশটির নরসুন্দরেরা। ‘ভালো কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ’ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত নতুন ফরমান অনুযায়ী, দাড়ি কামানো বা এক মুষ্টির কম রাখা এখন দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আদেশের জেরে যেমন নরসুন্দরদের ওপর নেমে আসছে জেল-জুলুমের খড়্গ, তেমনি ধস নেমেছে তাঁদের দীর্ঘদিনের উপার্জনে।

তালেবান কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য কমপক্ষে ‘এক মুষ্টি’ পরিমাণ দাড়ি রাখা ধর্মীয়ভাবে আবশ্যক। এই নিয়ম বাস্তবায়নে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত জনপদে নিয়মিত টহল দিচ্ছে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ দল। দক্ষিণ-পূর্ব গজনি প্রদেশের এক নরসুন্দর তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, এক গ্রাহকের চুল ‘পশ্চিমা ধাঁচে’ কাটার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে তিন দিন শীতল শিপিং কনটেইনারে আটকে রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তা শঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কেউ তর্ক করার সাহস পায় না, সেখানে আইনের ব্যাখ্যার চেয়ে ভয়ই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

নভেম্বর মাসে ইমামদের জন্য জারিকৃত আট পৃষ্ঠার এক নির্দেশিকায় জুমার খুতবায় দাড়ি কামানোকে ‘কবিরা গুনাহ’ বা মহাপাপ হিসেবে অভিহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালেবান কর্মকর্তাদের মতে, দাড়ি কামানোর মাধ্যমে পুরুষরা মূলত নারীদের সাদৃশ্য গ্রহণের চেষ্টা করে—যা তাঁদের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। এই কঠোরতার ঢেউ পৌঁছে গেছে দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, দাড়ি বা মাথায় টুপি না থাকলে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নম্বর কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

কাবুলের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ নরসুন্দর এই বিধিনিষেধকে ‘ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, চুল বা দাড়ি রাখা মানুষের একেবারেই নিজস্ব পছন্দের বিষয়। তবে ধর্মমন্ত্রী খালিদ হানাফি এমন যুক্তি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, শরীয়াহ আইন অনুযায়ী জনগণের বাহ্যিক অবয়ব নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে বড় শহরগুলোর জীবনযাত্রা আমূল বদলে গেছে। নরসুন্দররা জানাচ্ছেন, আগে সরকারি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিপাটি হতে আসতেন, এখন তাঁরা দাড়ি রাখায় সেলুনমুখী হওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। এতে যেমন গ্রাহক কমছে, তেমনি আয়ের পথও সংকুচিত হয়ে আসছে। ৫০ বছর বয়সী এক প্রবীণ নরসুন্দর বলেন, “প্রতিদিন নীতি পুলিশ এসে পরীক্ষা করে দেখে আমরা ‘ইংরেজি’ বা আধুনিক কোনো স্টাইলে কাজ করছি কি না। একটি শিশুর চুল কাটার ধরনেও তারা বিধিনিষেধ আরোপ করছে।”

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিবেদনগুলো বলছে, এই নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ইতিপূর্বেও অনেক নরসুন্দরকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছে। ফলে আফগানিস্তানের আয়না ও ক্ষুরের পরিচিত শব্দগুলো এখন এক অজানা আতঙ্কের চাদরে ঢাকা পড়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.