× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ড্রোন

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৯ পিএম । আপডেটঃ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৪১ পিএম

পারস্য উপসাগরের আকাশে মোতায়েনকৃত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৪বি ‘ট্রাইটন’ ড্রোন, যা স্পর্শকাতর অঞ্চলে নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। তেহরানের রণকৌশল ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘গুপ্তচর’ ড্রোনের উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটি থেকে এমকিউ-৪বি ‘ট্রাইটন’ ড্রোনের দীর্ঘ উড্ডয়ন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য কোনো বড় আকারের অভিযানের আগে রণক্ষেত্রের চূড়ান্ত মানচিত্র তৈরির লক্ষ্যেই ওয়াশিংটনের এই গোয়েন্দা তৎপরতা।

তৎপরতা নৌবাহিনীর জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এমকিউ-৪বি ট্রাইটন ড্রোনটি আধুনিক সমরাস্ত্র প্রযুক্তির এক বিস্ময়। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করে একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় নজরদারি চালাতে সক্ষম। এর ৩৬০-ডিগ্রি রাডার ব্যবস্থা পারস্য উপসাগরের বিশাল জলরাশি ও উপকূলীয় অঞ্চলের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে ইরানের উপকূলীয় সীমান্তের অত্যন্ত কাছাকাছি একাধিকবার এই ড্রোনের উপস্থিতি মিলেছে। পাশাপাশি আজারবাইজানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর পি-৮এ পসাইডন টহল বিমানগুলোও এই অঞ্চলে সক্রিয়ভাবে টহল দিচ্ছে।

হোয়াইট হাউস সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি ‘পুরোদস্তুর সামরিক অভিযান’ শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’—এই দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ১৫০টি কার্গো ফ্লাইটের মাধ্যমে গোলাবারুদ সরবরাহ এবং ৫০টি এফ-৩৫ ও এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমানকে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক’ অবস্থায় রাখা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এই রণসজ্জার বিপরীতে তেহরানও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে ইরান। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান নতুন একটি চুক্তিতে আসার জন্য ভেতরে ভেতরে আগ্রহী। তাঁর ভাষ্যমতে, গত গ্রীষ্মে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর তেহরান এখন ওয়াশিংটনের সামরিক সামর্থ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, "ইরান গতবার ভুল চাল চেলেছিল, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি গুরুতর।"

বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, কূটনীতির টেবিল থেকে সরে এসে শক্তির এই আস্ফালন পারস্য উপসাগরকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.