সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলা এবং সন্ত্রাসবাদে আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহারের অভিযোগে কাবুলের তালিবান সরকারকে কঠোর ‘কূটনৈতিক চরমপত্র’ বা ডিমার্শ দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মদত দেওয়া বন্ধ না করলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চরম সংকটে পড়বে।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার ইসলামাবাদে নিযুক্ত আফগানিস্তানের ‘ডেপুটি হেড অফ মিশন’-কে তলব করে এই ডিমার্শ হস্তান্তর করা হয়েছে।
গত সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় ১১ জন সেনাসদস্য ও এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, এই নৃশংস হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা এসেছে আফগানিস্তানের মাটি থেকে। এরপরই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার কাবুলের বিরুদ্ধে এই কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আফগান তালিবানের একাংশ টিটিপি বা ‘ফিতনা আল খোয়ারিজ’ জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় ও রসদ সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, পাক সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে আফগানিস্তানে বালোচ বিদ্রোহী গোষ্ঠী বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-রও গোপন ঘাঁটি রয়েছে, যাদের তারা ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে টিটিপির সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকাগুলোতে অশান্তি বেড়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের ভেতরে টিটিপির ডেরায় বিমান হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তান। যদিও কাবুল বারবার দাবি করে আসছে যে, এসব হামলায় জঙ্গিরা নয় বরং সাধারণ নাগরিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরেও দুই দেশের বাহিনী সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সাময়িকভাবে প্রশমিত হয়।
তবে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বাধীন পাক সামরিক বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জঙ্গিদের ডেরা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত তারা অভিযান অব্যাহত রাখবে। এই কূটনৈতিক চরমপত্রের পর কাবুল কী ভূমিকা নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে প্রতিবেশী দেশ দুটির ভবিষ্যৎ সম্পর্ক।