× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বিদ্রোহের দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের যাবজ্জীবন

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৬ পিএম । আপডেটঃ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৪৭ পিএম

ব্যর্থ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে দেশে নজিরবিহীন বিভক্তি ও গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে যাবজ্জীবন দণ্ডিত হলেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। ছবি: রয়টার্স

ব্যর্থ সামরিক শাসন জারি এবং বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন সিউলের একটি আদালত। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর ইউন সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে জাতীয় পরিষদ ঘেরাও এবং রাজনীতিকদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলেছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা সাবেক প্রেসিডেন্টের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিলেন। তবে আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ে আদালত এই ঘটনাকে উচ্চপর্যায়ের সুদূরপ্রসারী ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিচারক বলেন, ইউনের এই পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা ছিল।

রায়ের সময় আদালতে শান্ত ছিলেন ইউন, তবে তার আইনজীবীরা এই রায়কে ‘অপর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দেওয়া’ বলে দাবি করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চতর আদালতে আপিল করা হলে মামলাটি এখন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকবে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আকস্মিকভাবে টেলিভিশনে সরাসরি সামরিক আইন জারির ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন ইউন সুক ইয়োল। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তির’ হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে নাটকীয়ভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল সংখ্যক আইনপ্রণেতা জাতীয় পরিষদে প্রবেশ করে সামরিক আইন বাতিলের পক্ষে ভোট দেন। জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপের মুখে ইউন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন, যা পরবর্তীতে তার অভিশংসন ও বিচারের পথ প্রশস্ত করে।

সামরিক আইন জারির সেই ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ইউনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৯৯৭ সালের পর আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়ায়, বিশ্লেষকদের মতে, সাজা যা-ই হোক তা কার্যত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডেরই শামিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগেও কয়েকজন সাবেক প্রেসিডেন্ট দণ্ডিত হয়েছিলেন, যাদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে সরকারি ক্ষমায় মুক্তি পান। তবে ইউনের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এখনো বিতর্ক চলছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.