শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও আসক্তি সৃষ্টির অভিযোগে মেটা ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্য দিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে পৌঁছান মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: রয়টার্স
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি সংক্রান্ত এক ঐতিহাসিক মামলায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম এবং গুগলের ইউটিউব ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তিমূলক নকশা ব্যবহার করে কিশোর-কিশোরীদের দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাখছে—এমন গুরুতর অভিযোগে লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে কয়েক শ’ সমজাতীয় মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
মামলার কেন্দ্রে রয়েছেন ২০ বছর বয়সী তরুণী ক্যালি। তার অভিযোগ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি ইনস্টাগ্রামে আসক্ত হয়ে পড়েন। প্ল্যাটফর্মটির বিশেষ ইন্টারফেস তাকে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে আটকে রাখত, যার ফলে তার মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং শারীরিক গড়ন নিয়ে হীনম্মন্যতা তৈরি হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে মেটার অভ্যন্তরীণ নথিপত্র পেশ করেন। সেখানে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী টিকটককে টেক্কা দিতে ইনস্টাগ্রামের ‘রিলস’ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের স্ক্রিন টাইম বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে জাকারবার্গ আদালতকে বলেন, পরিসংখ্যানগুলো প্রতিযোগিতামূলক অগ্রগতি মাপার সূচক মাত্র; মেটার লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের আসক্ত করা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করা।
আদালতে ইনস্টাগ্রামের ‘বিউটি ফিল্টার’ নিয়েও বিতর্ক হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই ফিল্টারগুলো কিশোরীদের আত্মবিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জাকারবার্গ জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় এগুলো পুরোপুরি বন্ধ না করে সুপারিশ তালিকা থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
এদিকে, ১৩ বছরের কম বয়সীদের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ২০১৫ সালের এক নথিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের প্রায় ৩০ শতাংশই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত। ২০১৯ সালের আগে জন্মতারিখ যাচাইয়ের শক্ত ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জাকারবার্গ বলেন, প্রযুক্তিগত ও গোপনীয়তার সীমাবদ্ধতার কারণে বয়স যাচাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।
শুনানি চলাকালীন আদালতের বাইরে বিক্ষোভ করেন একদল অভিভাবক। তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি তাদের সন্তানদের জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ট্যামি রদ্রিগেজ নামের এক মা জানান, তার ১১ বছর বয়সী মেয়ে ২০২১ সালে আত্মহত্যা করে, যার পেছনে তিনি ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাটের আসক্তিকে দায়ী করেন।
২০২৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় জাকারবার্গ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। বর্তমান শুনানিতেও সেই আবেগঘন পরিস্থিতির প্রতিধ্বনি শোনা যায়। তবে মেটা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কিশোর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় তারা নিয়মিত নতুন নিরাপত্তা ফিচার যুক্ত করছে।
বিষয় : মার্ক জাকারবার্গ মেটা যুক্তরাষ্ট্র ইউটিউব
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
