জেফ্রি এপস্টাইন মামলার নথি প্রকাশের পর নারী অধিকার রক্ষায় পশ্চিমা দেশগুলোর আইনি ও নৈতিক কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক জেফ্রি এপস্টাইন মামলার কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই নথিতে উন্মোচিত হয়েছে এমন এক অন্ধকার অধ্যায়, যা নারী অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে পশ্চিমাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। এপস্টাইন কেলেঙ্কারি কেবল একটি অপরাধমূলক ঘটনাই নয়, বরং এটি তথাকথিত প্রগতিশীল সমাজে নারীর অবস্থান ও তাদের প্রতি সিস্টেমিক নিষ্ঠুরতার এক জীবন্ত প্রতীক।
প্রকাশিত নথির একটি বর্ণনায় দেখা যায়, এক কিশোরী পূর্বে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের সন্ধানে কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, যেখানে তার সুরক্ষা পাওয়ার কথা ছিল, সেখানে সে পুনরায় ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়। এই একটি ঘটনাই এপস্টাইন মামলার সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্বকে ফুটিয়ে তোলে—আস্থার চরম পতন। যে সমাজ নিজেকে নারীর আইনি ও সামাজিক সমতার মানদণ্ড হিসেবে দাবি করে, সেই সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা শোষণকে এটি নগ্ন করে দিয়েছে।
গত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা বিশ্ব নিজেদের নারী অধিকারের অগ্রদূত হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, নারী মুক্তির নামে সেখানে আসলে বাজার এবং ভোক্তা সংস্কৃতির এক গভীর আধিপত্য তৈরি হয়েছে। পর্নোগ্রাফি শিল্পের বিস্তার, বাণিজ্যিক যৌন বিনোদন এবং দেহ প্রদর্শনের স্বাভাবিকীকরণ নারীর মর্যাদাকে পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এপস্টাইন মামলা প্রমাণ করেছে যে, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে অনেক আইন থাকলেও সেগুলো প্রভাবশালী পুরুষদের অপরাধ আড়াল করার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রে নারীর সুরক্ষায় এত আইন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়ন সম্ভব হলো? নথিপত্র সাক্ষ্য দেয় যে, ধনী ও প্রভাবশালী পুরুষদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বছরের পর বছর ধরে অসহায় তরুণীদের পাচার ও যৌন দাসে পরিণত করেছে। এখানে সমস্যা আইনের অনুপস্থিতি ছিল না, বরং সমস্যা ছিল আইনের প্রয়োগহীনতা। সম্পদ ও রাজনৈতিক সংযোগ কার্যত এক ধরনের ‘অনাক্রম্যতা’ তৈরি করেছে, যা ভুক্তভোগীদের নীরব থাকতে বাধ্য করেছে।
এই কেলেঙ্কারির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো অভিযুক্তদের তালিকায় বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের নাম। জনসম্মুখে যারা নারী অধিকারের কথা বলেন, পর্দার আড়ালে তাদের এমন সংশ্লিষ্টতা সাধারণ মানুষের মনে বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা যখন দেখেন তাদের রক্ষকেরাই ভক্ষকের ভূমিকায়, তখন পশ্চিমা সভ্যতার এই চাকচিক্যময় ‘কার্ডবোর্ড জগত’ তাদের চোখের সামনে ভেঙে পড়ে।
এপস্টাইন মামলার এই ভয়াবহ অধ্যায়টি এখন বিশ্ববিবেকের কাছে একটিই প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে—এই জটিল ও নিষ্ঠুর পৃথিবীতে নারীর প্রকৃত সম্মান ও সুরক্ষা কি কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
বিষয় : জেফ্রি এপস্টেইন নারী ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
