বাবার সঙ্গে রাজনৈতিক তর্কের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ব্রিটিশ তরুণী লুসি হ্যারিসন। ছবি: ফেসবুক
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে রাজনৈতিক তর্কের জেরে বাবার পিস্তলের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন লুসি হ্যারিসন (২৩) নামের এক ব্রিটিশ তরুণী। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাবা-মেয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কিছুক্ষণ পরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের করোনারের আদালতে চলমান তদন্তে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
নিহত লুসির প্রেমিক স্যাম লিটলার আদালতের শুনানিতে জানান, ঘটনার দিন ট্রাম্পের শাসনকাল ও নারী বিষয়ক বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে লুসি তাঁর বাবা ক্রিস হ্যারিসনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে লুসি প্রশ্ন করেন, তিনি নিজে যদি কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হতেন, তবে বাবার প্রতিক্রিয়া কী হতো? বাবার কাছ থেকে হতাশাজনক উত্তর পেয়ে লুসি ক্ষুব্ধ হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান এবং সেদিনই যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
তদন্তে জানা যায়, বিমানবন্দর যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ক্রিস তাঁর মেয়ে লুসিকে বেডরুমে ডেকে নিয়ে যান। এর মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মাথায় একটি প্রচণ্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুসির মৃত্যু হয়।
ক্রিস হ্যারিসন আদালতে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তিনি কেবল বিছানার পাশে থাকা ৯ এমএম সেমি-অটোমেটিক পিস্তলটি মেয়েকে দেখাতে চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বন্দুকটি হাতে নেওয়ার সময় ‘হঠাৎ’ গুলি চলে যায়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা লুসিয়ানা এসক্যালেরা জানান, ঘটনার পর ক্রিসের নিঃশ্বাসে মদের তীব্র গন্ধ পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে মদ্যপানের আসক্তির কারণে তিনি পুনর্বাসন কেন্দ্রেও ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কলিন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি শুরুতে ক্রিসের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না আনায় সে সময় মামলা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতেই চেশায়ারের করোনারের আদালত লুসির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নামে। লুসির মা জেন কোটসের আইনজীবী আদালতে বলেন, ঘটনার সময় ওই ঘরে ক্রিস ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিল না, তাই লুসিকে তিনিই গুলি করেছেন।
লুসি হ্যারিসন জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘বোহু’তে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মা তাকে ‘জীবনের চালিকাশক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, লুসি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সোচ্চার থাকতে পছন্দ করতেন। আজ বুধবার ব্রিটিশ আদালতে এই তদন্তের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
