মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের অপেক্ষায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। ফাইল ছবি: এএফপি
ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান যদি একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নিতে দ্বিধা করবে না।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে মোতায়েন থাকা রণতরি বহরের পাশাপাশি আরও একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এশিয়ায় মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ অথবা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের ‘ইউএসএস এইচ ডব্লিউ বুশ’কে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে পাঠানো হতে পারে। এছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলে থাকা ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’কেও বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে।
এদিকে, স্যাটেলাইট চিত্রে কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের তৎপরতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের আগাম প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি।
গত সপ্তাহে ওমানে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পরমাণু ইস্যু, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানি ও ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের বৈঠকে একটি ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ চুক্তির ওপর জোর দেওয়া হলেও দুই পক্ষের শর্তাবলি নিয়ে জটিলতা কাটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে হবে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যদিকে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর নিজেদের প্রতিরক্ষার্থে গড়ে তোলা ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি জানিয়েছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানো সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর নির্ভর করছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তেহরানের ওপর আরও কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের জন্য তিনি ট্রাম্পকে চাপ দেবেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ‘ইসরায়েলি চাপ’ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আলোচনার গতিপ্রকৃতি নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার মন্তব্য করেছেন, “ইরানের বিষয়ে আলোচনার চূড়ান্ত ‘শেষ সীমা’ খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই নির্ধারণ করবেন।"
বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
