× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পদে প্রথম মুসলিম মুখ, আলোচনার তুঙ্গে শাবানা মাহমুদ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫০ পিএম । আপডেটঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫১ পিএম

যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা বর্তমান ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে ব্রিটিশ দূত পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম আসায় টালমাটাল ঋষি সুনাক পরবর্তী কিয়ার স্টারমার প্রশাসন। সরকারের এই সংকটে খোদ প্রধানমন্ত্রীর গদি যখন নড়বড়ে, ঠিক তখন জনমনে বড় এক প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে—কে হতে যাচ্ছেন স্টারমারের উত্তরসূরি? লন্ডনের রাজনৈতিক অন্দরমহলে এখন একটি নামই সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে—বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। যদি তিনি দলের হাল ধরেন, তবে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লেখাবেন এই দুঁদে ব্যারিস্টার।

লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টারে অস্থিরতার শুরু মূলত ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে। বিতর্কিত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের পুরনো সম্পর্কের জেরে লেবার পার্টির ভেতরেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি পদত্যাগ করলেও স্টারমার সরকারের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের টিকে থাকার সম্ভাবনা এখন ‘ফিফটি-ফিফটি’। এই শূন্যতা পূরণে লেবার পার্টির এমপিরা এখন শাবানা মাহমুদকেই নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে দেখছেন।

৪৫ বছর বয়সী শাবানা মাহমুদ কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন তুখোড় ব্যারিস্টারও। বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া এই নেত্রীর পারিবারিক শিকড় পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে। অক্সফোর্ডের স্নাতক শাবানা ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যের প্রথম তিন মুসলিম নারী এমপির একজন হিসেবে পার্লামেন্টে যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সামলানো শাবানাকে স্টারমারের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও নিয়মানুবর্তী মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ‘কঠোর’ ইমেজের কারণে আলোচনায় আছেন শাবানা। বিশেষ করে অভিবাসন নীতিতে তাঁর অবস্থান বেশ আলোচিত। তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব কোনো ‘অধিকার নয়, বরং একটি বিশেষ সুযোগ’। তাঁর এই ডানপন্থী ঘরানার কঠোর অবস্থান কনজারভেটিভ ভোটারদের আকৃষ্ট করলেও দলের বামপন্থীদের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে।

স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে শাবানা মাহমুদের পাশাপাশি আরও চার হেভিওয়েট নেতার নাম আলোচনায় আসছে:

ওয়েস স্ট্রিটিং

বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দক্ষ বাগ্মী হিসেবে পরিচিত। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে।


অ্যাঞ্জেলা রেনার

সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও তৃণমূল থেকে উঠে আসা জনপ্রিয় নেত্রী। বর্তমানে তিনি বিদ্রোহী এমপিদের একটি বড় অংশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।


অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

ম্যানচেস্টারের মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী। তবে বর্তমানে এমপি না হওয়ায় সাংবিধানিক জটিলতায় তাঁর সম্ভাবনা কিছুটা সীমিত।


এড মিলিব্যান্ড

লেবার পার্টির সাবেক প্রধান ও অভিজ্ঞ জ্বালানিমন্ত্রী। অস্থির সময়ে দলের অভিজ্ঞ অভিভাবক হিসেবে তাঁর নাম বারবার ফিরে আসছে।

যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী, দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন। যদি আগামী দিনগুলোতে স্টারমারের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পায়, তবে ব্রিটেনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের চাবিকাঠি শাবানা মাহমুদের হাতে যাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার হতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.