ভারতের লোকসভায় বাংলাদেশ ইস্যুতে বক্তব্য রাখছেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেকারত্ব, কৃষক সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ নিয়ে দিল্লির নীতিনির্ধারকদের অতি-তৎপরতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের লোকসভায় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘স্বাধীন’ দাবি করা হলেও দিল্লির বক্তব্যে প্রচ্ছন্ন নজরদারি এবং একচেটিয়া স্বার্থ রক্ষার সুরই প্রাধান্য পেয়েছে।
লোকসভায় বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত জবাব দেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য কোনো তৃতীয় দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। ভারতের প্রত্যাশা—একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লির মুখে ‘স্বাধীন সম্পর্কের’ কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তাদের নীতিতে সবসময় নজরদারি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের সুযোগ পাকিস্তান বা চীন নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কীর্তিবর্ধন সিং ইতিহাস ও সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে জনকল্যাণমুখী সম্পর্কের কথা বলেন। তবে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দিল্লির আসল অস্বস্তি ফুটে ওঠে তার বক্তব্যে। তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় নয়াদিল্লি ‘সার্বক্ষণিক নজর’ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ভয় থেকেই এই ‘সতর্কতা’ বলে মনে করা হচ্ছে।
আলোচনায় বরাবরের মতোই ঘুরেফিরে এসেছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গ। প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের কাছে বিষয়টি তুলছে। এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিজে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চুপ থাকলেও বাংলাদেশ ইস্যুতে দিল্লির এই নিরবচ্ছিন্ন ‘উপদেশ’ কূটনীতিতে প্রভাব খাটানোরই নামান্তর।
দিল্লির পক্ষ থেকে বারবার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে ছোট প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর তাদের অভিভাবকসুলভ আচরণ ও অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের মানসিকতা ফুটে উঠেছে লোকসভার এই আলোচনায়। বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দিল্লির এই অতি-সচেতনতা দুই দেশের স্বাভাবিক সম্পর্কের পথে বড় বাধা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিষয় : দিল্লি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
