ওমানের মাসকাটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ছবি: এএফপি
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ওমানে যখন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চ্যুয়াল দূতাবাস থেকে এই জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। গত গ্রীষ্মের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই প্রথম দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি সংলাপে বসলেন।
ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ শান্তিদূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার সকালে উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি হলো—ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করতে হবে। তবে আলোচনার টেবিলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিশাল নৌবহরকে ‘আর্মাডা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, ইরান যদি নতুন কোনো কঠোর পারমাণবিক চুক্তিতে সই না করে, তবে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদল ইরানের ‘শূন্য পারমাণবিক সক্ষমতা’র বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং প্রেসিডেন্টের হাতে সব ধরনের বিকল্প খোলা আছে।
মার্কিন চাপের মুখে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘অতিরিক্ত দাবি বা হঠকারিতা’র বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি তেহরানের রয়েছে। এদিকে ইরানের প্রধান মিত্র চীন ওয়াশিংটনের এই আচরণকে ‘একতরফা গুন্ডামি’ বলে অভিহিত করেছে এবং তেহরানের স্বার্থ রক্ষায় সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ইরান বলছে, তারা সংঘাতের আগে কূটনীতির শেষ সুযোগটি হাতছাড়া করতে চায় না।
ইরানের ভেতরে সরকারবিরোধী তীব্র আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পশ্চিমা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে ট্রাম্প আন্দোলনকারীদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে তাঁর মূল লক্ষ্য তেহরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমন করা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, ট্রাম্প সামরিক পথ এড়িয়ে লক্ষ্য অর্জন করতে চাইলেও প্রয়োজনবোধে শেষ পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপই বেছে নেবেন।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
