× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ক্লিনারের চাকরির প্রলোভনে ইউক্রেন যুদ্ধে বাধ্য করা হচ্ছে বাংলাদেশিদের: এপির প্রতিবেদন

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৯ এএম । আপডেটঃ ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৪ পিএম

ছবি: প্রতীকী/এআই

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সিভিল পদের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের কৌশলে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ তথ্য। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, দালালের মাধ্যমে ভালো কাজের আশায় রাশিয়া গিয়ে তারা এখন মরণফাঁদে আটকা পড়ছেন।

ভুক্তভোগী মাকসুদুর রহমান এপি-কে জানান, এক দালাল তাকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে রাশিয়ার মস্কোয় পাঠায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে বাধ্য করা হয় ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে লড়াই করতে। এপি এমন তিনজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলেছে, যারা রুশ সেনাবাহিনী থেকে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তারা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের দিয়ে রুশ ভাষায় লেখা কিছু চুক্তিনামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, সেগুলো ছিল মূলত সামরিক বাহিনীতে যোগদানের চুক্তি।

ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিবাদ করলে অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে রুশ কমান্ডাররা তাদের বলতেন, ‘তোমার এজেন্ট তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে; আমরা তোমাকে কিনে নিয়েছি।’ এরপর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে তাদের ড্রোন যুদ্ধকৌশল ও ভারী অস্ত্র ব্যবহারের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই ৩ জনের বাইরে নিখোঁজ আরও ৩ জন বাংলাদেশির পরিবার একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা এপি-কে জানিয়েছে।

মাকসুদুর রহমানের ভাষ্যমতে, সম্মুখসারিতে কাজ করতে অস্বীকার করলেই জুটত অমানুষিক লাথি ও মারধর। এমনকি ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকিও দেওয়া হতো। টানা সাত মাস এই বিভীষিকার মধ্যে কাটিয়ে কোনোমতে প্রাণ হাতে দেশে ফেরেন তিনি। যুদ্ধের ময়দানে তাদের প্রধান কাজ ছিল নিহত সৈনিকদের মরদেহ উদ্ধার করা, আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং রসদ বহন করা।

এপি তাদের অনুসন্ধানে ভুক্তভোগীদের ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিপত্র, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার ছবিসহ পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। কতজন বাংলাদেশি বর্তমানে সেখানে আটকা পড়ে আছেন তার সঠিক সংখ্যা না জানা গেলেও, ভুক্তভোগীদের দাবি—রুশ বাহিনীর সঙ্গে তারা শত শত বাংলাদেশিকে যুদ্ধের ময়দানে দেখেছেন।

উদ্বেগের বিষয় হলো, শুধু বাংলাদেশ নয়—ভারত, নেপাল এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও একই কৌশলে যুদ্ধক্ষেত্রে শোষণ করছে রাশিয়া। এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.