বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ তুলে নিতে নবনিযুক্ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নয়েমকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫ জন কংগ্রেসম্যান। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঠানো এই চিঠিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাসের চেয়ার কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং-এর নেতৃত্বে এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন আইনপ্রণেতারা। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়ায় এই আকস্মিক স্থগিতাদেশের কারণে ১ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি এশীয়-আমেরিকান দেশটিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ‘৪০ শতাংশ’ মানুষ এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়েছেন, যা একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করার শামিল বলে মনে করছেন কংগ্রেসম্যানরা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পারিবারিক, ব্যবসায়িক বা চাকরির সুবাদে যারা আইনি প্রক্রিয়া মেনেই যুক্তরাষ্ট্রে আসার অপেক্ষায় ছিলেন, এই নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য অন্যায্য। আইনপ্রণেতারা এই পদক্ষেপকে ‘নির্দয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “যারা বৈধ পথে আসার সব নিয়ম পূর্ণ করেছেন, প্রবেশের আগেই তাদের বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এটি আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সরাসরি ব্যাহত করছে।”
উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। এ তালিকায় রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, কুয়েত ও নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, যেসব দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলক বেশি সরকারি কল্যাণভাতা (পাবলিক চার্জ) গ্রহণ করে, তাদের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নতুন অভিবাসীরা মার্কিন জনগণের সম্পদে ভাগ বসাবে না—এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর রাখার কথা জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানটি কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ভিসা বাতিলের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবেদনকারী ব্যক্তি ভবিষ্যতে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—এমন সামান্য আশঙ্কায়ও ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই এখন প্রবল প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।