দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের বিরতি কাটিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে পুনরায় সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ১৪৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হয়। দীর্ঘ ১৪ বছর পর দুই দেশের মধ্যে আকাশপথের এই পুনর্মিলনকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইটটি করাচিতে অবতরণ করার পর সেটিকে ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়াটার স্যালুট’ দিয়ে রাজকীয় স্বাগত জানানো হয়। বিমানবন্দরের টার্মিনালে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে কেক কেটে এই পুনযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিন্ধুর গভর্নর কামরান তেসোরি এবং করাচিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার সাকিব সাদাকাত। অতিথিরা জানান, এই উদ্যোগ কেবল এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন নয়, বরং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটানোর একটি বড় পদক্ষেপ।
প্রাথমিকভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা ও করাচির মধ্যে প্রতি সপ্তাহে দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রুটটি পুনরায় চালু হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুর দিকেই পরবর্তী সব ফ্লাইটের টিকিট প্রায় বিক্রি হয়ে গেছে। যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরাসরি আকাশপথের এই সংযোগের ফলে পারিবারিক যাতায়াত ও পর্যটনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও ব্যয় অনেকাংশেই কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে সিন্ধুর গভর্নর কামরান তেসোরি বলেন, "এই বিমান পরিষেবা চালুর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হলো। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে বাণিজ্য ও সংস্কৃতির আদান-প্রদান বৃদ্ধি পাবে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।" উপস্থিত কর্মকর্তারাও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরাসরি যোগাযোগের এই সুফল দুই দেশের সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়িক মহল দ্রুতই ভোগ করতে শুরু করবেন।
সূত্র: সামা টিভি।