বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম সদস্য তালিকার বাইরে চলে গেল বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশটি। মূলত কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও-র ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তুষ্টির জের ধরেই চূড়ান্তভাবে এই বিচ্ছেদ ঘটল।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে জানানো হয়, এখন থেকে ডব্লিউএইচও-র পরিবর্তে নিজস্ব কাঠামোর মাধ্যমেই মার্কিন জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে বেশি মনোযোগী হবে ওয়াশিংটন। উল্লেখ্য, সদস্যপদ ত্যাগের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সংস্থাটির যাবতীয় তহবিল অনুদান বন্ধ করে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক বিদায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "স্বাস্থ্য এমন একটি বৈশ্বিক ইস্যু যার কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই। মহামারি ও ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। জাতিসংঘ প্রত্যাশা করে, যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রমে অংশ নেবে।"
অন্যদিকে, ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন তহবিল বন্ধ হওয়ায় সংস্থাটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বে। এই ঘাটতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বেশ কিছু জনহিতকর কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে 'বেপরোয়া' ও 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লাকি ট্রান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "ডব্লিউএইচও হয়তো নিখুঁত নয়, কিন্তু এর সংস্কার করতে হলে ভেতরে থেকেই কাজ করা উচিত ছিল। বাইরে যাওয়া কোনো সমাধান নয়।"
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালীনই ডব্লিউএইচও থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি এই সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশে সই করেন। এক বছরের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা এখন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলো। বর্তমানে ১৯৪টি সদস্য দেশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে কাজ করছে ডব্লিউএইচও।