দীর্ঘ ২৭ বছরের গৌরবময় কর্মজীবনের ইতি টেনে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা থেকে অবসরে গেছেন প্রখ্যাত মার্কিন মহাকাশচারী সুনিতা উইলিয়ামস। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে তাঁর এই অবসর কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তিনবার অভিযান এবং দীর্ঘ ৬০৮ দিন মহাকাশে কাটানোর অনন্য রেকর্ড নিয়ে মহাকাশ গবেষণার এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটালেন তিনি।
সুনিতা উইলিয়ামস তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে ৯টি স্পেসওয়াক বা মহাকাশ-ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন। মহাকাশযানের বাইরে শূন্যে তাঁর কাটানো মোট সময় ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট, যা একজন নারী মহাকাশচারী হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড এবং নাসার ইতিহাসে সামগ্রিকভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ। মহাকাশে দীর্ঘতম সময় অবস্থানের তালিকায় তিনি নাসার বিজ্ঞানীদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
সুনিতার অবসরের পর তাঁর প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সুনিতা সরাসরি নাসা থেকে কোনো পেনশন পাবেন না। তিনি মূলত মার্কিন 'ফেডারেল এমপ্লয়িজ রিটায়ারমেন্ট সিস্টেম' (এফইআরএস)-এর আওতায় পেনশন সুবিধা পাবেন।
তাঁর পেনশনের পরিমাণ নির্ধারিত হবে ২৭ বছরের চাকরির মেয়াদ এবং কর্মজীবনের শেষ দিকে টানা তিন বছরের সর্বোচ্চ গড় বেতনের ওপর ভিত্তি করে। নাসায় সুনিতার পদমর্যাদা (জিএস-15 গ্রেড) অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার মার্কিন ডলার।
মার্কিন সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, চাকরির প্রতি বছরের জন্য ১ শতাংশ হারে পেনশন হিসাব করা হয়। সেই হিসেবে তাঁর বার্ষিক পেনশন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। তবে এটি কেবল ফেডারেল সরকারের অংশ। এর বাইরেও তিনি আরও কিছু সুবিধা পাবেন:
সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্প: এই প্রকল্পের আওতায় তিনি আলাদা মাসিক ভাতা পাবেন।
সঞ্চয়ী তহবিল (টিএসপি): থ্রিফট সেভিংস প্ল্যানে তাঁর জমানো সঞ্চয় থেকেও মোটা অঙ্কের অর্থ পাবেন।
অতিরিক্ত সুবিধা: অবসরের পরও তিনি নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমার সুবিধা ভোগ করবেন।
উল্লেখ্য, সুনিতার এই দীর্ঘ কর্মজীবনে কেবল নাসার অভিজ্ঞতাই নয়, বরং ইউএস নেভি ক্যাপ্টেন হিসেবে কাটানো সময়কেও পেনশনের মানদণ্ডে যুক্ত করা হয়েছে।