× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

গ্রিনল্যান্ড না দিলে শুল্ক: ট্রাম্পকে ইইউ-এর কড়া জবাব

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৩ এএম । আপডেটঃ ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৪ এএম

কায়া ক্যালাস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প |

গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকির প্রেক্ষাপটে বিশ্বরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নেটোর সদস্য দেশগুলো। পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানের ফলে আটলান্টিকের দুই পাড়ের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, ডেনমার্ক যদি গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরে রাজি না হয়, তবে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা ‘শতভাগ’ কার্যকর করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বসবে, যা জুনে বেড়ে দাঁড়াবে ২৫ শতাংশে। ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো নেটো মিত্রদের ওপরও একই হারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, ইউরোপের উচিত গ্রিনল্যান্ড ছেড়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দিকে মনোযোগ দেওয়া।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘সীমা লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, হুমকি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পাওয়া সম্ভব নয়। এদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারও গ্রিনল্যান্ডবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন ইউরোপের কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে প্রতীকী সেনা মোতায়েন করেছে। ডেনমার্ক সতর্ক করেছে যে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ নেটো জোটের অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে পারে। তবে নেটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গেই কাজ করবেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। ইইউ'র পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া ক্যালাস বলেন, “ইউরোপ কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না, তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও অবস্থান থেকে এক চুলও নড়বে না।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাণিজ্যিক হুমকি দিয়ে একটি ভূখণ্ডের মালিকানা কেনা-বেচা সম্ভব নয়।

এরই মধ্যে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত তিক্ততা প্রকাশ্যে এসেছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার জন্য নরওয়েকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। জবাবে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে জানান, নোবেল কমিটি সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং এতে সরকারের কোনো হাত নেই। নরওয়ে সরকারও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্কের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে একাধিক সামরিক বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘নোরাড’। যদিও সংস্থাটি দাবি করেছে এটি তাদের নিয়মিত ও পূর্বপরিকল্পিত কার্যক্রম, তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.