বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর একীভূত ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। এই নতুন ব্যবস্থায় সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত সবকিছুই থাকবে দেশটির সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে। মূলত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি উসকানি বন্ধের অজুহাতে তেহরান এই ‘ন্যাশনাল ইন্টারনেট’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
গত ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে সরকারবিরোধী জনরোষে রূপ নেয়। ইরান সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি স্টারলিংকের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের অবৈধ ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের চেষ্টাও অকার্যকর করে দেয় খামেনি প্রশাসন। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘নেটব্লকস’ জানিয়েছে, গত ১০ দিনে ইরান ২০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বিশ্বে সরকার নিয়ন্ত্রিত দীর্ঘতম শাটডাউনগুলোর একটি।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ফিল্টারওয়াচ’-এর তথ্যানুসারে, ইরান এখন ধীরে ধীরে বৈশ্বিক রুট থেকে সরে আসছে। তেহরানের নতুন এই জাতীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থায় থাকবে সরকার অনুমোদিত নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন এবং মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। এমনকি নেটফ্লিক্সের আদলে নিজস্ব স্ট্রিমিং সাইট এবং উন্নত নেভিগেশন সেবা চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। এই প্রক্রিয়ায় তথ্য ও যোগাযোগের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে রাষ্ট্রের হাতে।
নতুন এই ব্যবস্থায় সাধারণ নাগরিকদের জন্য আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র কঠোর নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং সরকারি যাচাই প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাই বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সীমিত সুযোগ পাবেন। বিপরীতে, সাধারণ মানুষ কেবল রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি পাবে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে ইরান তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে বহির্বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।