গাজা শাসনের লক্ষ্যে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দিতে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে এই আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গাজায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি জানান, জাতিসংঘের প্রস্তাবনার আলোকে ফিলিস্তিন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পাকিস্তান সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবে।” পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই উদ্যোগে অংশ নিয়ে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধি হিসেবে পাকিস্তান জোরালো ভূমিকা রাখতে চায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিষদ গঠনকে তার প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, “শান্তি পরিষদ ঘোষণা করতে পারা আমার জন্য বিরাট সম্মানের। বোর্ড অব পিস গঠিত হয়েছে এবং এর সদস্যদের নাম খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে এই পরিষদ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সহজভাবে নেয়নি ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে রোববার তাঁর জোট সরকারের অংশীদারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বোর্ড গঠনের ঘোষণা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো প্রকার সমন্বয় না করেই দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জাতীয় নীতির পরিপন্থী।
মূলত গাজায় ইসরায়েলি একক আধিপত্যের বদলে আন্তর্জাতিক এই তদারকি পরিষদ গঠন নিয়ে তেল আবিব চরম অস্বস্তিতে রয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় রক্তপাত বন্ধে এই ‘সেকেন্ড ফেইজ’ বা দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনড় অবস্থানে রয়েছে।