× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

১৫০০ টাকার চাকরি ফিরিয়ে যেভাবে কোটিপতি হয়েছিলেন জিন্নাহ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৫৬ এএম । আপডেটঃ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৫৬ এএম

তরুণ ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ফাইল ছবি

উপমহাদেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ। কেবল একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবেই নয়, বিশ শতকের শুরুতে ব্রিটিশ ভারতের একজন শ্রেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবেও তিনি ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য। নিজের তীক্ষ্ণ মেধা, আপসহীন পেশাদারিত্ব এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই তিনি কোটিপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

জিন্নাহর রাজনৈতিক ও আইনি সাফল্যের সূচনা হয়েছিল তৎকালীন বম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই)। ১৯০৫ সালের দিকে বম্বে পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচনে ব্রিটিশ সরকারের মনোনীত ‘ককাস’ গ্রুপের দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক মামলা লড়েন তিনি। তার মেন্টর ফিরোজ শাহ মেহতাকে অন্যায়ভাবে পরাজিত করার ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জিন্নাহ প্রমাণ করেন যে, ব্রিটিশদের তৈরি আইনি কাঠামো ব্যবহার করেই তাদের পরাজিত করা সম্ভব। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রোহিত দে-র মতে, এই মামলাই জিন্নাহকে জাতীয় স্তরে খ্যাতি এনে দেয়।

১৮৯৬ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে লন্ডনের ‘লিঙ্কনস ইন’ থেকে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় হিসেবে ব্যারিস্টারি পাস করেন জিন্নাহ। বম্বেতে আইন পেশা শুরু করার পর তার দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়ে তৎকালীন প্রাদেশিক সরকার তাকে মাসিক ১৫০০ টাকা বেতনের স্থায়ী চাকরির প্রস্তাব দেয়। সেই সময়ে এটি ছিল আকাশচুম্বী বেতন। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী জিন্নাহ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, "আমি অচিরেই এই পরিমাণ অর্থ প্রতিদিন উপার্জন করব।" পরবর্তী জীবনে তিনি তার এই উক্তিকে বাস্তবে রূপদান করেছিলেন।

আদালত কক্ষে জিন্নাহর উপস্থিতি ছিল রাজকীয়। সাংবাদিক ফ্র্যাঙ্ক মরিসের বর্ণনায়, জিন্নাহ ছিলেন আইনি লড়াইয়ের একজন শিল্পী। তিনি মামলার একেবারে গভীরে গিয়ে সূক্ষ্মতম যুক্তি উপস্থাপন করতেন। জিন্নাহর বাগ্মিতা এতোটাই জোরালো ছিল যে, সিনিয়র আইনজীবী থেকে শুরু করে বিচারক—সবাই মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনতেন। তিনি ব্রিটিশ আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ভারতীয়দের নাগরিক অধিকার রক্ষায় লড়াই করেছেন। ভগৎ সিং-এর বিচারের বৈধতা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের কঠোর সমালোচনা করতেও তিনি দ্বিধা করেননি।

একজন সফল আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি জিন্নাহ ছিলেন সফল বিনিয়োগকারী। ১৯৩০-এর দশকে তিনি কেবল আইন পেশা থেকেই মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা উপার্জন করতেন। লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড, বম্বের মালাবার হিল এবং দিল্লির আওরঙ্গজেব রোডে তার বিলাসবহুল সম্পত্তি ছিল। তার ব্যক্তিগত রুচি ছিল অত্যন্ত আভিজাত্যপূর্ণ; বলা হয় তিনি একই সিল্কের টাই দুবার পরতেন না। তবে আভিজাত্যের পাশাপাশি তিনি অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়েও অত্যন্ত সচেতন ছিলেন।

জিন্নাহর পেশাদার নৈতিকতা ছিল আপসহীন। তিনি বিনা পারিশ্রমিকে মামলা লড়তেন না, তবে দরিদ্র বাদীদের ক্ষেত্রে নিজে অর্থ সাহায্য করে সেই ফি আদায়ের ব্যবস্থা করতেন। কাশ্মীরী নেতা শেখ আবদুল্লাহর হয়ে একদিনেই মামলা জেতা কিংবা ভোপালের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি রক্ষা করার মতো ঘটনাগুলো তাকে সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

অধ্যাপক রোহিত দে-র ভাষায়, জিন্নাহ সারা জীবন ব্রিটিশদের আইনি কাঠামোর মধ্যেই লড়াই করেছেন এবং তার জীবনের দীর্ঘ লড়াইয়ের সফলতম ও সর্বশেষ ‘মামলা’ ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন।


সূত্র: বিবিসি 

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.