ভেনেজুয়েলার দুর্গসদৃশ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আটকের ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল। কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই দুর্ধর্ষ অভিযান কীভাবে সফল হলো, তা নিয়ে শুরু থেকেই নানা জল্পনা ছিল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধারণা করা হচ্ছে, মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোর পরোক্ষ সহায়তায় এই অভিযান সফল হয়েছে।
রয়টার্সের দাবি, মাদুরো প্রশাসনের ভেতর থেকেই কেউ একজন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে নিয়মিত তথ্য সরবরাহ করছিলেন। মাদুরোর অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিখুঁত মানচিত্র হাতে থাকায় পেন্টাগনের পক্ষে এই অভিযান পরিচালনা করা সহজ হয়। যদিও সরাসরি কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে ঘটনার পর থেকে আঙুল উঠছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেলোর দিকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাবেলোর গোপন যোগাযোগ ছিল এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়ও সেই যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
মজার বিষয় হলো, যে মাদক পাচার মামলায় মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই একই মামলায় কাবেলোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার মাথার দাম ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন। তা সত্ত্বেও অভিযানের সময় তাকে আটক করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘কোলেকতিভো’র ওপর কাবেলোর একক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। দেশটিকে গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচাতে এবং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের অবস্থান সুসংহত করতে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত কাবেলোকে ‘সেফ প্যাসেজ’ দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন মনে করছে, কাবেলো যদি তার অনুগত বাহিনীকে লেলিয়ে দেন, তবে ভেনেজুয়েলা রক্তক্ষয়ী সহিংসতার মুখে পড়বে। তাই আপাতত তেলসম্পদ রক্ষা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাকে পাশে রাখা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কাবেলো প্রকাশ্যে নতুন প্রশাসনের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছেন, পর্দার আড়ালে তার ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে দেনদরবার চলছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের ছায়াসঙ্গী এবং মাদুরো শাসনের অন্যতম রূপকার কাবেলো এখন ভেনেজুয়েলার রাজনীতির ‘কিংমেকার’ নাকি ‘মীরজাফর’—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স