সম্প্রতি ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক সংস্থা ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ‘ডিপফেক’ ভিডিও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, জেনারেল অনিল চৌহান বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতা এবং বাংলাদেশের কাছে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। একজন রাজনৈতিক নেতার পোস্টের পর ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
তবে রিভার্স ইমেজ সার্চ ও ভিডিও ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটির মূল দৃশ্যটি গত ৭ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস কে সিনহা মেমোরিয়াল লেকচার’ অনুষ্ঠানের। প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) ধারণ করা সেই মূল ভিডিওতে বাংলাদেশ বা যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত কোনো বক্তব্যই ছিল না। ভাইরাল ক্লিপটিতে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভারতের সেনাপ্রধানের কণ্ঠে ভুয়া অডিও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
একাধিক এআই শনাক্তকরণ টুল যেমন—SynthID এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেক সংস্থা ‘ফ্যাক্টলি’ তাদের ১৩ জানুয়ারির প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে যে, ভিডিওটি শতভাগ কৃত্রিমভাবে সম্পাদিত। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনারেল চৌহানের শারীরিক ভঙ্গি ও ঠোঁটের নড়াচড়ার সাথে অডিওর অসামঞ্জস্যতা ভিডিওটি ‘ডিপফেক’ হওয়ার অন্যতম প্রমাণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার আঞ্চলিক রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে। কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার আগে মূল ধারার গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।