ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেশটির পাঁচ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে নারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে দেশটির ‘ফারদিস’ কারাগারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ দপ্তর এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে তেহরানের ওপর এই নতুন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
মার্কিন অর্থ দপ্তরের তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা। ওয়াশিংটনের দাবি, এই কর্মকর্তারাই নেপথ্যে থেকে ইরানি বিক্ষোভকারীদের দমনের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছেন। এছাড়া ১৮ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে 'ছায়া ব্যাংকিং' নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম বিক্রির অর্থ পাচারের অভিযোগ এনে পৃথক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক ভিডিও বার্তায় ইরানি নেতাদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আপনারা ইরানি জনগণের কাছ থেকে চুরি করা অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে সরিয়ে নিচ্ছেন। আমরা সেই অর্থের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছি এবং আপনাদের খুঁজে বের করব।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানিদের স্বাধীনতা ও ন্যায়ের দাবির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি হাতিয়ার ব্যবহার করবে।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্নীতি নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ ও দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে। তবে বিক্ষোভের জন্য ইরান সরকার বরাবরই তাদের চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছে।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪৩৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর বর্তমান পরিস্থিতিকে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।