ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ এরফান সোলতানিকে (২৬) পরিবারের কাছ থেকে শেষ বিদায় নিতে মাত্র ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার যেকোনো সময় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানোর এই তোড়জোড় শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ।
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভের জেরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে এরফানই প্রথম, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, এরফানকে কোনো আইনজীবী নিয়োগ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের নূন্যতম সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি এক আত্মীয় আইনজীবী হিসেবে তার পক্ষে লড়তে চাইলে নিরাপত্তা বাহিনী তাকে হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেয়। কর্মকর্তাদের সাফ বক্তব্য ছিল— বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তারকৃতদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র পরিণতি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান-এর তথ্যমতে, এরফানের বিরুদ্ধে ‘মোহরেবেহ’ বা ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানের আইনে একটি সর্বোচ্চ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি তারা এই মৃত্যুদণ্ড নিয়ে জনসমক্ষে মুখ খোলেন, তবে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।
পোশাকশিল্পে কর্মরত এরফান গত বৃহস্পতিবার কারাজ শহরের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। মূলত অর্থনৈতিক সংকট ও বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর মতে, এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৫০০ থেকে ২০০০ পর্যন্ত হতে পারে।
এদিকে, এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় তিনি বিক্ষোভকারীদের সাহস জুগিয়ে বলেন, ‘সাহায্য আসছে।’ একই সঙ্গে এই ‘নির্বিচার হত্যাকাণ্ড’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইরানে বর্তমানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্ল্যাকআউট চলায় অনেক তথ্যেরই নিরপেক্ষ যাচাই সম্ভব হচ্ছে না।