ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাজপথ না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বিক্ষোভকারীদের উৎসাহিত করে বলেন, “সহায়তা আসছে।” তবে এই সহায়তার ধরণ বা সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান উত্তেজনাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি লেখেন, “ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান—নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিন! খুনি ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন, তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে।”
বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও ঘোষণা করেন যে, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্ধারিত সব বৈঠক বাতিল করেছেন। বার্তার শেষে তিনি ‘মিগা’ (মিগা - মেইক ইলরান গ্ৰেট এগেইন) শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন।
ট্রাম্পের ‘সহায়তা আসছে’ মন্তব্যের নেপথ্যে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত রয়েছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব শক্তিশালী সামরিক বিকল্প’ বিবেচনার কথা বলেছিলেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট বিমান হামলাসহ ‘অনেক বিকল্প’ নিয়ে ভাবছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে চায়।
বিক্ষোভ দমনে ইরানের ভূমিকার প্রতিবাদে ট্রাম্প কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই আদেশকে তিনি ‘চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ইরানে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ২ হাজার ছাড়িয়ে থাকতে পারে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অস্থিরতা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে সৃষ্ট একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।