ইরানে চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার নিরাপত্তারহুমকিকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মস্কোর পক্ষ থেকে দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘ধ্বংসাত্মক বহিরাগত হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক জন্য ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানে চলমান পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যারা নতুন করে সামরিক আগ্রাসনের পরিকল্পনা করছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হতে পারে। বিবৃতিতে গত বছরের জুনে ইরানের ওপর সংঘটিত হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, “বাইরের উসকানিতে সৃষ্ট অস্থিরতাকে পুঁজি করে যারা পুনরায় আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায়, তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।” মস্কোর মতে, ওয়াশিংটনের বর্তমান অবস্থান ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং এটি পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুর আরও কড়া হয়েছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব শক্তিশালী’ একাধিক সামরিক বিকল্প বিবেচনা করছে। ট্রাম্পের এই ইঙ্গিত তেহরানের ওপর চাপ বাড়ালেও একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে মস্কো।
২০২৫ সালের জুনে ইরানে হওয়া পূর্ববর্তী হামলার স্মৃতি এখনও স্পষ্ট। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে এই সামরিক হুমকি পুরো অঞ্চলকে নতুন করে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। রাশিয়া মনে করে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপই এই গণবিক্ষোভের মূলে রয়েছে, যা এখন বাইরের শক্তির মদদে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় রূপ নিচ্ছে।