ইরানের রাজপথে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারশেল নিক্ষেপের পর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম পোস্ট’। সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর তথ্যের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহতের একটি বড় অংশই গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার—মাত্র দুই রাতের অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন, যাকে দেশটির সমসাময়িক ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাদের এই হিসাবের নেপথ্যে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, প্রেসিডেন্টের দপ্তর এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একাধিক সদস্যের গোপন সূত্র রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতদের পরিবার এবং চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ নিহতের এই সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের হিসেবে গত মাস থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গেছে। এর মধ্যে ৫০৫ জন বিক্ষোভকারী (৯ জন শিশুসহ) এবং ১৩৩ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। সংগঠনটি আরও জানায়, এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে।
ইরান কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত এই বিপুল প্রাণহানির খবরকে ‘মনগড়া’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের দাবি, ‘বিদেশি শক্তি’ ও ‘সন্ত্রাসীরা’ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। সহিংসতার জন্য তারা ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করে বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থি সমাবেশও আয়োজন করেছে। তবে ইন্টারনেটে কড়াকড়ি ও গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।
ইরানে চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ ও ইন্টারনেট সেবা চালুর দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা ইরানি কর্তৃপক্ষের মৌলিক দায়িত্ব।”
এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইরানি কূটনীতিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফ্রান্স ও সুইডেন তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক পথে সমাধানের পাশাপাশি ‘অন্যান্য বিকল্প’ ব্যবস্থার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে।
বিষয় : ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
