বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তনগুলো ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বা 'কমিউনিকেশন চ্যানেল' বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সম্পর্কের সমীকরণ এবং একে ভারতের জন্য কোনো হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে যে সরকার দায়িত্ব পালন করছে, তারা স্বল্পমেয়াদী নাকি দীর্ঘমেয়াদী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা আগে পরিষ্কারভাবে বোঝা প্রয়োজন।”
তিনি আরও যোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি পরবর্তী চার-পাঁচ মাস কিংবা চার-পাঁচ বছরের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই ভারত তার প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া বা মূল্যায়ন জানাবে। পরিস্থিতি বুঝে সময়োচিত বিশ্লেষণ করাই এই মুহূর্তে ভারতের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, ভারতের স্থল, নৌ ও বিমান—তিন বাহিনীর সঙ্গেই বাংলাদেশের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নিজে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। পাশাপাশি আমাদের নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানরাও তাঁদের সমকক্ষদের সঙ্গে কথা বলছেন।”
সম্প্রতি ভারতের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান জানান, প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এসব উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের মধ্যে যেন কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না হয়।
সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, এটি প্রতিটি দেশের জন্য একটি চলমান ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ভারত যেমন নিজের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্য দেশগুলোও তা করছে। তবে বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন।