হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক, যেখানে আইনের চেয়ে শক্তির প্রাধান্যই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক আচরণ ক্রমে এমন এক রূপ নিচ্ছে, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর চেয়ে ‘রাজাসুলভ’ একচ্ছত্র ক্ষমতার দিকেই বেশি নির্দেশ করে। দুই মাস আগে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা বিরোধীদের ‘নো কিংস’ (রাজা নয়) আন্দোলনকে উপহাস করলেও, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি বিশেষ করে পশ্চিম গোলার্ধে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা সেই আশঙ্কাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গির এক চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নিজের নৈতিকতা এবং বিবেক ছাড়া বাইরের কোনো শক্তি বা আইন তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক আইনের প্রাসঙ্গিকতা স্বীকার করলেও তিনি শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, কোন আইন তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সেটি নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল তাঁরই। টাইমস এই মনোভাবকে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত শাসনের সবচেয়ে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি হিসেবে অভিহিত করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও একই সুর প্রতিফলিত হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ভেনেজুয়েলার মতো একটি সার্বভৌম দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সক্ষমতা ও ন্যায্যতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার সিএনএনকে দেওয়া বক্তব্যে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন। তাঁর মতে, পৃথিবী পরিচালিত হয় শক্তি ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে, তাই যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের নমনীয়তা ছাড়াই নিজের স্বার্থ অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে হবে।
ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের এই দৃষ্টিভঙ্গি মার্কিন ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক কাঠামোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টিফেন মিলার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে ‘প্লেনারি’ বা প্রায় সীমাহীন বলে দাবি করেছেন। এমনকি ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। প্রশাসন একে সামরিক অভিযানের বদলে ‘আইন প্রয়োগের পদক্ষেপ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, যার আওতায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিচারিক পর্যালোচনা ছাড়াই শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা ওয়াশিংটন নিজের হাতে রাখতে চায়।
বিচার বিভাগ ও নির্বাহী আদেশের সংঘাত
ট্রাম্পের এই ক্ষমতা সংজ্ঞায়নের প্রভাব মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোতেও দৃশ্যমান। সম্প্রতি তিনি এমন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যা বিচার বিভাগের চিরাচরিত আইনি পরামর্শকে কার্যত উপেক্ষা করে। এই আদেশ অনুযায়ী, আইনের ব্যাখ্যার প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি এমন এক বলয়ে প্রবেশ করছে যেখানে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং ‘শক্তিই সত্য’—এই নীতিই মূল নিয়ামক হয়ে উঠছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতার সীমারেখা যেভাবে তিনি প্রসারিত করছেন, বিশ্বমঞ্চেও তার প্রতিফলন অনেকের কাছে একটি ‘রাজাসুলভ’ পররাষ্ট্রনীতির স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
