× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর হওয়ার সংকেত খামেনির, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৫ এএম । আপডেটঃ ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২০ এএম

ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহর‌। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। আন্দোলন দমনে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক’ অভিহিত করে তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুক্রবার পর্যন্ত সংঘর্ষে অন্তত ৬৫ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

শনিবার এক বিবৃতিতে ইরানের অভিজাত বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাই তাদের কাছে ‘শেষ কথা’ এবং বিদ্যমান পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সেনাবাহিনীও সরকারি সম্পদ ও কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ রেখে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


খামেনির অভিযোগ ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হয়ে কাজ করছেন এবং তারা মূলত ‘বিদেশি ভাড়াটে’। খামেনির এই বক্তব্যের বিপরীতে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, “ইরানের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সরকার যদি গুলি চালায়, তবে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।” মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও ইরানি জনগণের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।

বিক্ষোভ কেবল অর্থনৈতিক দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা এখন সরাসরি বর্তমান শাসনের অবসানের দাবিতে রূপ নিয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এক চিকিৎসকের মতে, হাসপাতালে আনা অনেক বিক্ষোভকারীর শরীরেই বুলেটের আঘাত ও গভীর ক্ষত রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-র তথ্যমতে, নিহত ৬৫ জনের মধ্যে ৫০ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে, নির্বাসিত সাবেক শাহর ছেলে রেজা পাহলভি আন্দোলনকারীদের শহরগুলোর কেন্দ্রস্থল দখল এবং তেল-গ্যাস খাতে ধর্মঘট ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ইরানের শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। একদিকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও গত বছরের যুদ্ধের জেরে ভঙ্গুর অর্থনীতি, অন্যদিকে ব্যাপক জনরোষ—সব মিলিয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে ইরান সরকার। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে তেহরান অনড় অবস্থানে থেকে বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে দমন অব্যাহত রেখেছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.